নির্ভীকে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করে আপনার সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে নিবন্ধন করুন
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
14 বার প্রদর্শিত
"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন (জ্ঞানী)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (জ্ঞানী)
হাফেজ মাওঃ মোহাম্মদ আইয়ূব
যখন হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ) পৃথিবীতে আগমন করেন এবং সন্তান প্রজনন ও বংশ বিস্তার আরম্ভ হয় তখন হাওয়ার গর্ভ থেকে প্রত্যেকবারেই হযরত আদমের দুটি সন্তান এরুপ যমজ জম্ম গ্রহন করিত যে একটি পুত্র আর একটি কন্যা। তখন ভ্রাতা ভগ্নি ছাড়া হযরত আদম (আঃ) এর আর কোন সন্তান ছিল না। অথচ ভ্রাতা ভগ্নি পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। তাই আল্লাহ তায়ালা উপস্থিত প্রয়োজনের খাতিরে আদম (আঃ) এর শরীয়তে বিশেষভাবে এই নির্দেশ জারি করেন যে একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা জন্মগ্রহন করিবে তারা পরস্পর সহোদর ভ্রাতা ভগ্নি গন্য হবে। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হবে। কিন্তু পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্মগ্রহনকারী পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহনকারীনী কন্যা সহোদরা ভগিনী হিসাবে গন্য হবে না। তাদের পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে। অর্থাৎ ১ম বারের পুত্র ২য় বারের কন্যা আর ২য় বারের পুত্র এবং ১ম বারের কন্যা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারত। অর্থাৎ আদমের শরীয়তে প্রয়োজনের কারনে গর্ভের ভিন্নতাকে বংশের ভিন্নতা হিসাবে গন্য করা হত। এ পরম্পরায় আদম (আঃ) এর দুটি পুত্র ভুমিষ্ট হল। একজনের নাম রাখা হল হাবীল আর অন্য জনের নাম রাখা হল কাবীল। উভয়ের সংগে এক এক জন কন্যাও জন্মেছিল। সে সময়ের বিধান অনুযায়ী হাবীলের বিবাহ কাবীলের ভগ্নির সহিত এবং কাবীলের বিবাহ হাবীলের ভগ্নির সহিত নির্ধারিত হল। কাবীলের সহজাত ভগ্নিটি ছিল অপেক্ষাকৃত পরমাসুন্দরী এবং হাবীলের ভগ্নিটি ছিল কুশ্রি ও কদাকার। অতএব কাবীল নিজেই তার ভগ্নির বিবাহের প্রার্থী হল। এতে হাবীল রাজী না হওয়ায় কাবীল অসন্তুষ্ট হয়ে হাবীলের শত্র“ হয়ে গেল। সে জেদ ধরল যে আমার সহজাত ভগ্নি কেই আমার সংগে বিবাহ দিতে হবে। আদম (আঃ) কাবীলকে বহু বুঝালেন কিন্তু সে মানলনা। অবশেষে আদম (আঃ) তার শরীয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবীলের আব্দার প্রত্যাখ্যান করলেন। অতঃপর তিনি কাবীলের মুখ বন্ধ করে হাবীল ও কাবীলের মতভেদ দুর করার উদ্দেশ্যে এ মিমাংশা করলেন যে তোমরা উভয়েই আল্লাহর জন্য নিজ নিজ কোরবানী (মান্নত) পেশ কর। যার কোরবানী আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে সেই এ কন্যাকে বিবাহ করতে পারবে। আদম (আঃ) এর নিশ্চিত বিশ্বাস যে, যে সত্য পথে আছে তার কোরবানীই গৃহীত হবে। এজন্যই তিনি এই মিমাংশা করলেন যেন কাবিলের ঝগড়া বিবাদেরও কথা বলিবার স্থান না থাকে। ইহার অর্থ এ নহে যে কাবীলের পক্ষে তাহার ভগ্নি হালাল হবার সম্ভাবনা ছিল। তৎকালে কোরবানী গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পস্ট নিদর্শন ছিল এই যে আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে কোরবানীকে পোড়াইয়া দিত, যে কোরবানীকে অগ্নি পোড়াইয়া দিত না তাকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হত। মোট কথা উভয়েই স্ব স্ব কোরবানী (মান্নত) উপস্থিত করল।
হাবীল ভেড়া দুম্বা ইত্যাদি পশুু পালন করত তাই সে একটি উৎকৃষ্ট দুম্বা কোরবানীর জন্য উপস্থিত করল।কাবীল কৃষি কাজ করত সে কিছু শস্য গম পেশ করল। অতঃপর আকাশ থেকে অগ্নিশিখা অবতরন করে হাবীলের কোরবানীকে পোড়াইয়া দিল এবং কাবীলের কোরবানী যেমন ছিল তেমনি পড়ে রইল। এ মিমাংশায়ও যখন কাবীল হেরে গেল তখন তার দুঃখ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। অত্যাচারী যখন কোন প্রমান উপস্থিত করতে না পারে তখন প্রতিশোধ গ্রহনের পিছনে লেগে যায়। সে মর্মে কাবীল হাবীলের প্রানের শত্র“ হয়ে গেল। এবং প্রকাশ্যে ভাইকে প্রানহানীর হুমকি দিয়ে বলে দিল অবশই আমি তোমাকে হত্যা করব। হাবীল তখন ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি মার্জিত ও নীতিগত বাক্য উচ্চারন করে বলল إنما يتقبل الله من المتقينআল্লাহ তায়ালার নিয়ম এই যে তিনি খোদাভীরু পরহেজগারের কর্মই গ্রহন করেন। তুমি ভিতি অবলম্বন করলে তোমার কোরবানীও গৃহীত হত। তুমি তা করনি তাই কোরবানীও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে আমার দোষ কি? কিন্তু এতদ্ সত্ত্বেও যদি তোমার ইহাই ইচ্ছে হয়ে থাকে তবে তুমি জেনে রাখ যে তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্য আমার প্রতি হস্ত প্রসারিত কর তথাপি আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার দিকে কখনো আমার হাত বাড়াব না। কেননা আমি বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। আমার ইচ্ছা এই যে আমার দ্বারা কোন পাপ কার্য সংগঠিত না হউক তুমি আমার উপর যত যুলুমই করনা কেন ইহার ফলে তুমি আমার পাপ এবং তোমার পাপ সমস্তই নিজের মাথায় উঠিয়ে নাও অনন্তর তুমি দোযখীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এরুপ শাস্থি অত্যাচারীদের হয়ে থাকে অতঃপর প্রবৃত্তি তাকে স্বীয় ভ্রাতিৃ হত্যার প্রতি আরও উদ্বুদ্ধ করে তুলল অতএব সে তাকে হত্যাই করে ফেলল। (এমনি তো পুর্ব হতে কাবীল ভ্রাতৃ হত্যার সংকল্প করেছিল যখন শুনল সে প্রতিরোধও করবেনা। ভাইয়ের উদারবাণী শুনে তো তার হৃদয় বিগলিত হয়ে যাওয়া উচিত ছিল কিন্তু তা না হয়ে নিশ্চন্ত চিত্তে তাকে
হত্যা করে ফেলল ) ফলে সে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ল। (পার্থিব ক্ষতি এই যে স্বীয় বাহুর বল আত্মার শান্তি হারিয়ে বসল আর কিয়ামতের দিন কঠোর শাস্থিতে নিমজ্জিত হবেই।
এখন হত্যা কার্য সমাধা করে হয়রান হয়ে গেল যে লাশ কি করবে? কি করে এই পাপ লুকিয়ে রাখবে তাহা ভেবে কিছুই ঠিক করতে পারল না ) এমতাবস্তায় আল্লাহতায়ালা একটি কাক সেখানে প্রেরন করলেন। সে চঞ্চু এবং পায়ের নখের দ্বারা মাটি খুড়তে লাগল এবং অন্য একটি মরা কাককে ঐ গর্তের মধ্যে রেখে তার উপর মাটি চাপা দিতে লাগল যেন সে কাক কাবীলকে শিখাইয়া দেয় যে স্বীয় ভ্রাতা হাবীলের লাশ কিভাবে ঢাকিবে। কাবীল ঘটনা উপলদ্ধি করে নিজে নিজে খুব অপমান বোধ করল যে কাকের ন্যায় বুদ্ধিও আমার নেই এবং অত্যন্ত আফসোসের সাথে সে বলতে লাগল আফসুস আমার অবস্থার প্রতি। আমি কি এ কাকের সমতুল্য হতে পারলাম না যে আপন ভ্রাতার মৃতদেহ আবৃত করি ফলে এই দুরবস্থায় সে অত্যন্ত লজ্জিত হল। (মায়েদা ২৭-৩১)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
1 উত্তর
18 মে 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Asif Shadat (জ্ঞানী)
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
1 উত্তর
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
1 উত্তর
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
1 উত্তর
11 জুন 2018 "বিনোদন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ইউনুস (গুরু)
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
1 উত্তর
02 জুন 2018 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন builderbd (জ্ঞানী)
নির্ভীক এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা,যৌন,খেলাধুলা ও শরীরচর্চা,সাধারণ জ্ঞান সহ রয়েছে আরও অনেক বিভাগ।এখনই প্রশ্ন করে আপনার উত্তরটি জেনে নিন।
এই মাসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী
January 2019:
  1. শারিউল ইসলাম নাইম
  2. Amirul
  3. Shinchan
  4. md.shanto
  5. Hridoy
...