নির্বিক ডট কমে প্রশ্ন করে বিনামূল্যে উত্তর জেনে নিতে পারেন।প্রশ্ন করতে এখনই নিবন্ধন করুন।
78 বার প্রদর্শিত
21 ফেব্রুয়ারি 2018 "যৌন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (1,202 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
21 ফেব্রুয়ারি 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (1,202 পয়েন্ট)
মেয়েদের পিরিয়ড / মাসিক/ ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করা হল:
প্রজনন হরমোনগুলোর প্রাকৃতিক ক্রম হ্রাস পাওয়া : সাধারণত ৩০ দশকের শেষের দিকে মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ কমে যায়। এ সময় ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়াটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আর ডিম্বস্ফোটনের পর প্রোজেস্টেরন হরমোনের জোয়ার আসাটাও দুর্বল হয়ে যায়। ফলে সার্বিকভাবে এ সময় সন্তান ধারণ ক্ষমতা অনেকখানি কমে যায়। ৪০-এর দশকে এটা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মাসিক চক্র অনিয়মিত হতে থাকে এবং নানাবিধ উপসর্গ সৃষ্টি হতে থাকে। একপর্যায়ে মেয়েদের পিরিয়ড একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।
জরায়ু অপসারণ বা হিস্টেরেকটমি : বিভিন্ন কারণে মহিলাদের জরায়ু অপসারণ করে ডিম্বাশয় সংরক্ষণ করা হলে নিয়মিত মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হলেও অন্যান্য লক্ষণ-উপসর্গ প্রশমিত হয় না। কিন্তু হিস্টেরেকটমির পাশাপাশি ডিম্বাশয় দুটিও অপসারণ করা হলে অবিলম্বে পিরিয়ড বন্ধ র লক্ষণ প্রকাশ পায়।
* ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপি প্রয়োগ করার ২ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ নানাবিধ লক্ষণ-উপসর্গ প্রকাশিত হতে দেখা যায়।
ডিম্বাশয়ের প্রাথমিক অসম্পূর্ণতা : অনেক মহিলার বয়স ৪০ অতিক্রম করার আগেই র শিকার হন। সাধারণত এদের ডিম্বাশয় বিভিন্ন কারণে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে পারে না। বিভিন্ন রোগের কারণে ডিম্বাশয়ের এরকম সমস্যা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এমনটি ঘটতে দেখা যায়।
মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হবার আগে থেকেই এর লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায়। এসব লক্ষণ-উপসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
অনিয়মিত স্রাব, যৌনাঙ্গের শুষ্কতা, তাপঝলক, ঘুমের নানা রকম সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা, বিষন্নতা, পেটে মেদ জমা, চুল পাতলা হওয়া, চুল পড়ে যাওয়া, স্তন ক্ষীণ হওয়া এবং সার্বিকভাবে সন্তান ধারণের ক্ষমতা লোপ পাওয়া।
রজঃনিবৃত্তির পর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ইস্টোজেন হরমোনের অভাবের ছাপ পড়ে।
যেমন:
হৃদরোগ : ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর পুরুষদের মতো মহিলাদেরও হৃদরোগের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
অস্থি ভঙ্গুরতা : মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর অতি দ্রুত অস্থির ঘনত্ব কমে যায় যা অস্থিক্ষয় নামে পরিচিত। এর ফলে হাড় নরম এবং ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সাধারণত মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর মেয়েদের নিতম্ব, কবজি, শিরদাঁড়া ইত্যাদি হাড় ভাঙ্গার প্রবণতা অনেকগুণ বেড়ে যায়।
মূত্র ধারণে সমস্যা : মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর মূত্রনালী এবং যৌনাঙ্গের আবরণী এবং ইলাস্টিক কলা অনেক দুর্বল হয়ে যায়। ফলে মূত্রথলিতে মূত্র ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। হাসি-কাশি কিংবা ভারী জিনিসপত্র ওঠানো নামানো করতে গেলেই অনেকের মূত্র নিঃসরণ হয়ে যায়।
স্থূলকায় : মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সময় অনেক মহিলার ওজন বেড়ে যায়। এজন্য এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত ব্যায়াম করা উচিত।
মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়া শনাক্ত করার জন্য তেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। তবে কোন ধরনের সন্দেহ থাকলে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা নির্ধারণ করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ, হাড়ের সমস্যা ইত্যাদি জটিলতা রয়েছে কি না তা শনাক্ত করার জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
22 মার্চ "যৌন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ran Ran Ran (4,810 পয়েন্ট)
1 উত্তর
05 জুন 2018 "যৌন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন nafima (11 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
13 জুন 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Younus Matubber (9,589 পয়েন্ট)
নির্বিক ডট কম এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন এবং পাশাপাশি অন্য কারো প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে তাদের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।প্রশ্ন উত্তর করতে নিবন্ধন করুন।

20,085 টি প্রশ্ন

21,928 টি উত্তর

1,660 টি মন্তব্য

5,031 জন সদস্য

...