96 বার প্রদর্শিত
"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন
প্রশ্ন : আমাদের কোনো কোনো মসজিদে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়া হয় আবার কোনো কোনো মসজিদে ৮ রাকাত পড়া হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ৮ রাকাত পড়েন তাঁরা বলেন,  রাসুলুল্লা (স.) কখনো ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়েননি। আমি জানতে চাচ্ছিলাম তারাবির নামাজ কোনটা সঠিক, ২০ রাকাত না ৮ রাকাত?

উত্তর : আপনি তারাবির নামাজ ২০ রাকাতও পড়তে পারেন। এটি ওলামায়েকেরামের বক্তব্য রয়েছে এবং এ বিষয়ে সাপোর্ট রয়েছে এবং এর পক্ষে দলিলও রয়েছে। ৮ রাকাতও আপনি পড়তে পারেন। ৮ রাকাতের বিষয়ে ওলামায়েকেরামের ইস্তিহাদ রয়েছে তারাবির সালাতের বিষয়ে।

আপনি যে কথা বলেছেন, রাসুলুল্লা (স.) কখনো তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়েননি, এ কথা সত্য বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কোনো সহিহ হাদিসের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়নি রাসুলুল্লাহ (স.) ২০ রাকাত পড়েছেন।

প্রশ্ন : তারাবির নামাজ আসলে কী? আমরা কি এটিকে সালাতের সঙ্গে তুলনা করব?

উত্তর : তারাবির সালাত এক ধরনের নফল সালাত। এটির নির্দিষ্ট কোনো সালাতের কথা বলা হয়নি, দুই রাকাত করে ৮ রাকাত, ১০ রাকাত, ১২ রাকাত, ১৬ রাকাত, ২০ রাকাত, ২৪ রাকাত, ৩০ রাকাত  যার যতটুকু সমর্থ রয়েছে তিনি ততটুকু পড়বেন। তারাবির সালাত মূলত রাতের নামাজ এবং রাতের নামাজের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশনা হচ্ছে দুই রাকাত, দুই রাকাত করে আদায় করা। কত রাকাত, রাসুলুল্লাহ (স.) তা নির্ধারণ করে যাননি। কেউ যদি ২০ রাকাত পড়েন তাহলে পড়তে পারেন, কেউ যদি ৮ রাকাত পড়েন তাহলে সেটাও পড়তে পারেন।

source-ntvbd
0 টি ভোট
করেছেন
তারাবীর নামায বিশ রাকাত।
তারাবীর নামায ২০ রাকাত হওয়ার দলীলঃ
  প্রখ্যাত সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ) তারাবী নামায ২০ রাকাতের পক্ষে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁরা হলেন, খলীফা হযরত উমর ফারুক (রাঃ) । তাফসীরে ইবনে কাসীর প্রণেতা উল্লেখ করেছেন, রাসূল(সাঃ) উনার চাচা
* হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), * হযরত আবু যর গিফারী(রাঃ), * হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ), * হযরত হাসান(রাঃ), * হযরত ইবনে আবিল হাসনা(রাঃ), * হযরত আবদুল আজিজ ইবনে রুফাহ(রাঃ) ।
প্রমূখ সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ)-ও তারাবীর নামায ২০ রাকাতের পক্ষে বর্ণনা করেছেন ।
মোল্লা আলী ক্বারী (রাঃ) তাঁর পূর্বের ইমামগণ হতে সংগৃহীত একটি হাদীস মিরকাত শরহে মিশকাতের ২য় খণ্ডের ১৩৫পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি হচ্ছে “রাসূল (সাঃ)-এর এরশাদ হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত শরয়ী বিধান নিঃশর্তভাবে অনুসরণ করা উম্মতের জন্য আবশ্যক”। সুতরাং এরূপ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করা ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
রাসূল (সাঃ) ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করতেন, এ সম্পর্কিত হাদীসসমূহ হচ্ছেঃ
* আল সুনানুল কুবরা বায়হাকীর ২য় খণ্ডের ৬৯৮ পৃষ্ঠার ৪২৮৬ নং হাদীস, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবী ও বিতর নামাজ আদায় করতেন।
* মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-এর ২য় খণ্ডের ১৬৩ পৃষ্ঠায় ৭৬৮০ নং হাদীসে হযরত শুতাইর ইবনে শাকাল (রাঃ) এবং হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ), তারীখু জুয়জান হামযাহ সাহমী (রাঃ) গ্রন্থের ১৩১৭ পৃষ্ঠায় ৫৫৭ নং হাদীসটিতেও একই রকম বর্ণনা রয়েছে ।
এ ছাড়া হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত সুনান তিরমীজির ৩য় খণ্ডের ১৬১ ও ১৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত ৮০৬নং হাদীসটিতে তিনি উল্লেখ করেন। তারাবীর নামাজে রাসূল (সাঃ) কিয়ামুল লাইলও করতেন বলে উল্লেখ করেছেন। খুলাফায়ে রাশেদীন হযরত উমর ফারুক (রাঃ), হযরত উসমান(রাঃ), হযরত আলী (রাঃ), ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করতেন। আর এ সম্পর্কিত হাদীসসমূহ হলো:
* সিহ্হা-সিত্তাহ হাদীস গ্রন্থ সমূহের অন্যতম আবূ দাউদ শরীফ-এর ২য় খণ্ডের ১৪২৯নং পৃষ্ঠায় হযরত হাসান (রাঃ) বলেন, হযরত উমর খাত্তাব (রাঃ) সকলকে হযরত উবাই ইবনে কা'আব (রাঃ) এর পেছনে একত্র করলেন, তখন ইবনে কা'আব (রাঃ) তাদের ইমামতী করে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করলেন।
* সুনানু বাইহাকীর ২য় খণ্ডের ৬৯৯পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৪২৮৯ নং হাদীসে হযরত সায়ীব ইবনে ইয়াজিদ (রাঃ) বলেন, হযরত উসমান ইবনে আফকান (রাঃ) এর খিলাফতের সময়ে নামাজীরা দাঁড়ানোর কষ্টে লাঠিতে ভর দিতেন তবুও ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ কম পড়তেন না।
* মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাইর ২য় খণ্ডের ১৬৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৭৬৮১নং হাদীসে হযরত ইবনে আবিল হাসনা (রাঃ) বলেন, হযরত আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন রমজানে ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ পড়তেন।
এ প্রসঙ্গে আরো হাদীসঃ # -জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৮০৬। # -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৭৬৮০, ৭৬৮১,৭৬৮২, ৭৬৮৩, ৭৬৮৪, ৭৬৮৫। # -সুনানে কুবরালিল বায়হাকী, হাদীস নং ৪২৯০, ৪২৯১, ৪২৯২। # -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীসনং ৭৭৩৩। # -আল-মু’জামুল কাবীর লিত- তাবারানী, হাদীস নং১২১০২। # -আল-মু’জামুল আওসাত লিত-তাবারানী, হাদীস নং৭৯৮। # -কিতাবুল উম্ম ১/১৬৭। এ ছাড়াও আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে। সংক্ষেপে অল্প কিছু সংখ্যক দলীল উল্লেখ করা হলো।
[বি: দ্র: হাদীস নাম্বার ও রেফারেন্সের ক্ষেত্রে “মাকতাবায়ে শামিলা” অনুসরণ করা হয়েছে।]

মাযহাবের অনুসারীরা বিশ রাকাত তারাবীর উপর আমল করে যাচ্ছেন।
ইমাম শাফেয়ী(রহ.) [মৃত্যু ২০২ হি.] বলেন—
ﻭﺃﺣﺐ ﺇﻟﻰ ﻋﺸﺮﻭﻥ ﻷﻧﻪ ﺭﻭﻯ ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﺑﻤﻜﺔ – ﺃﻱ : ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ – ﻭﻳﻮﺗﺮﻭﻥ ﺑﺜﻼﺙ
অর্থাৎ তারাবীহ ২০ রাকাআত আদায় করা আমার কাছে পছন্দনীয়। কেননা উমর (রা.) থেকে এমনই বর্ণিত আছে। আর মক্কাবাসীগণ তারাবীহ এভাবেই আদায় করেন এবং তিন রাকাআত বিতর পড়েন।” [কিতাবুল উম্ম, ১/১৪২]
ইমাম তিরমিযী(রহ.) তাঁর জামে’ তিরমিযীতে (৩/১৭০) ইমাম শাফেয়ীর উক্ত মতটি উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আন নববী (রহ) বলেন, ﻓَﺼَﻠَﺎﺓُ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢِ ﺳُﻨَّﺔٌ ﺑِﺈِﺟْﻤَﺎﻉِ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﻭَﻣَﺬْﻫَﺒُﻨَﺎ ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﺑِﻌَﺸْﺮِ ﺗَﺴْﻠِﻴﻤَﺎﺕٍ ﻭَﺗَﺠُﻮﺯُ ﻣُﻨْﻔَﺮِﺩًﺍ ﻭَﺟَﻤَﺎﻋَﺔ
অর্থাৎ সালাতুত তারাবীহ সুন্নাত, তা আলেমগণের ইজমা’দ্বারা প্রমাণিত। আমাদের মাযহাব (শাফেয়ী) এর মত হল, তারাবীহ ২০ রাকাআত, ১০ সালামে। চাই একাকী পড়ুক কিংবা জামাআতের সাথে।” [আল মাজমূ’, অর্থাৎ সালাতুত তারাবীহ সুন্নাত, তা আলেমগণের ইজমা’দ্বারা প্রমাণিত। আমাদের মাযহাব (শাফেয়ী) এর মত হল, তারাবীহ ২০ রাকাআত, ১০ সালামে। চাই একাকী পড়ুক কিংবা জামাআতেরসাথে।” [আল মাজমূ’, ৩/৫২৬]
ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বলী (রহ) বলেন, ﻭَﺍﻟْﻤُﺨْﺘَﺎﺭُ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﺑِﻲ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺭَﺣِﻤَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﺑِﻬَﺬَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱُّ ﻭَﺃَﺑُﻮ ﺣَﻨِﻴﻔَﺔَ ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣَﺎﻟِﻚٌ ﺳِﺘَّﺔٌ ﻭَﺛَﻠَﺎﺛُﻮﻥَ ﻭَﺯَﻋَﻢَ ﺃَﻧَّﻪُ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮُ ﺍﻟْﻘَﺪِﻳﻢُ ﻭَﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺑِﻔِﻌْﻞِ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔ
অর্থাৎ আবূ আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)’র মতে তারাবীহ ২০ রাকাআত। একই মত সুফইয়ান সাওরী, আবূ হানীফা ও শাফেয়ী (রহ.)’রও।
সুতরাং নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, কত রাকাতের আমল আমাদের করতে হবে!

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
22 মার্চ 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন builderbd
1 উত্তর
25 সেপ্টেম্বর 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Asif Shadat
1 উত্তর
30 জুলাই 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rana iglesias
1 উত্তর
20 জুলাই 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Asif Shadat
1 উত্তর
2 টি উত্তর
21 মে 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md tushar
1 উত্তর
20 মে 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Asif Shadat
নির্বিক এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন এবং পাশাপাশি অন্য কারো প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে তাদের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।
...