search
প্রবেশ
নির্বিক ডট কম এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন এবং পাশাপাশি অন্য কারো প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে তাদের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।প্রশ্ন উত্তর করতে নিবন্ধন করুন।

20,096 টি প্রশ্ন

21,941 টি উত্তর

1,665 টি মন্তব্য

5,038 জন সদস্য

0 টি ভোট
26 বার প্রদর্শিত
01 অগাস্ট "কম্পিউটার ও ইন্টারনেট" বিভাগে জিজ্ঞাসা

1 উত্তর

0 টি ভোট

বিটকয়েনঃ
সহজ ভাষায় ‘বিটকয়েন’ হচ্ছে নতুন ধরনের টাকা যা অর্থ ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপ ।এটি বাস্তবিক কোনো মুদ্রা বা কয়েন নয় । বিটকয়েনের অস্থিত্ব শুধুমাত্র অনলাইনে বিদ্যমান । প্রতিটি বিটকয়েন মূলত এক-একটি ডিজিটাল কম্পিউটারাইজড ফাইল যেগুলো একটি ডিজিটাল ওয়ালেট এ সংরক্ষিত থাকে । লোকেরা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিটকয়েন লেনদেন করতে পারেন ।এই ধরনের ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা আসলে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নামে পরিচিত ।


বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?
বিটকয়েন ইমেইল অনুরূপ কাজ করে। ইমেইল পাঠাতে বা গ্রহণের জন্য যেভাবে ইমেইল অ্যাড্রেসের (ঠিকানা) প্রয়োজন হয় তেমনি বিটকয়েন পাঠানোর এবং গ্রহণের জন্য বিটকয়েন অ্যাড্রেস প্রয়োজন হয় যা বিটকয়েন ওয়ালেট হিসেবেও পরিচিত। বিটকয়েন ওয়ালেট পাওয়ার পরেই কেবল আপনি বিটকয়েন ক্লাইন্টদের সাথে লেনদেন করতে পারবেন ।

বিটকয়েন ঠিকানা দেখতে এরকম হয়: 3J98t1WpEZ73CNmQviecrnyiWrnqRhWNLy .

বিটকয়েন  একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল অর্থ ব্যবস্থা ।বিটকয়েন ‘পিয়ার টু পিয়ার’ নেটওয়ার্ক ক্যাশ সিস্টেম প্রযুক্তিতে কাজ করে ফলে এর কোন কেন্দ্রীয় সার্ভার বা সেন্ট্রাল স্টোরেজ নেই ।এবং বিটকয়েন মালিকদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করাও সম্ভব নয় ।সর্বোপরি বিটকয়েনের কোনো কেন্দ্রীয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও নেই ।

বিটকয়েন এর প্রতিটি লেনদেন ‘ব্লকচেইন (Blockchain)’ নামক একটি পাবলিক তালিকা বা খতিয়ানে রেকর্ড করা হয় যা সর্বজনীন প্রদর্শিত হয় । বিটকয়েন ওয়ালেট একটি ব্যাক্তিগত গোপনীয় কী (চাবি) বা ডাটা বহন করে যা লেনদেন এ ব্যবহৃত হয় এবং এটিই ওয়ালেটের মালিকেরও পরিচয় বহন করে ।

বিটকয়েন এর ইতিহাসঃ

‘ওয়েই দাই’ একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও সাইপারপাঙ্ক(Cypherpunk) বিশেষজ্ঞ যিনি ১৯৯৮সালে প্রথম ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নামক ধারণাটির প্রস্তাবক ছিলেন ।ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে কিভাবে ডিজিটালি লেনদেনের  প্রাইভেসি রক্ষা করা যায় তার ক্ষেত্রে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন ।

২০০৯ সালে ‘সাতোশি নাকামোটো’ নামের অজানা এক ব্যক্তি বা দল প্রথম বিটকয়েন তৈরি করেছিলেন । সাতোশি প্রথম পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার ব্লকচেইনের ডাটাবেস তৈরি করেন । এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রজেক্টটিতে সক্রিয় থাকার পর নিজের সম্পর্কে কোনো কিছু প্রকাশ না করেই প্রজেক্ট ছেড়ে দেন ।
২০১০ সালে কেউ কেউ তাদের বিটকয়েন গুলো বিক্রি শুরু করে যখন ১বিটকয়েন = মাত্র $.২০ সেন্টস ডলার ছিল ।এবং পরবর্তী ২০১৩ সালের দিকে বিটকয়েন দারুন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন ১বিটকয়েন= $১০০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় । বর্তমানে বিটকয়েন এর দাম বেড়েই চলেছে ।

যেভাবে নতুন বিটকয়েন তৈরি হয়?


নতুন বিটকয়েন তৈরি হয় ‘মাইনিং(Mining)’ নামক বিকেন্দ্রীভূত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ।এতে জটিল গাণিতিক পাজলগুলি সমাধান করার জন্য প্রতিযোগিরা কম্পিউটারে একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে। বর্তমানে একজন বিজয়ীকে প্রতি ১০মিনিটে ১২.৫বিটকয়েন পুরুষ্কৃত করা হয় ।


বিটকয়েনের সুবিধাসমূহঃ
১. ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এর চেয়েও বিটকয়েনে লেনদেন করা সহজ । ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডর মত মধ্যস্থ কোনো মার্চেন্ড অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন নেই ।

২. যে কোনো সময় বিশ্বের যে কোন জায়গায় বিটকয়েন পাঠানো এবং গ্রহণ করা সম্ভব। কোন ব্যাংক ছুটির দিন নেই, সীমানা নেই. কোন আমলাতন্ত্র নেই। বিটকয়েন তার ব্যবহারকারীদের তাদের অর্থ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয়।

৩. বিটকয়েন গ্রহণ করার জন্য কোন ফি নেই । ১বিটকয়েন ট্রান্সফার করতে যে ফি খরচ হয় সম্ভব্য ১০,০০০বিটকয়েন ট্রান্সফার করতেও সমান ফি খরচ হবে ।

৪. বিটকয়েন ব্যবহারকারীরা তাদের পেমেন্ট ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়াও করা যেতে পারে ।তাছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য চুরির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারী ব্যাকআপ ও এনক্রিপশন সহ তাদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে ।

বিটকয়েনের অসুবিধাসমূহঃ

১. বিটকয়েন এখনও ব্যাপকভাবে অনলাইনে গৃহীত হয় না ।

২. ব্যবহারকারীর লেনদেনগুলি সরকার কর্তৃক ট্র্যাক করা সম্ভব নয় এবং অপরাধবৃত্তি বৃ্দ্ধির আশঙ্কায় অনেক দেশে বিটকয়েন ব্যবহার বৈধ নয় ।বিটকয়েন ব্যবহার অবৈধ এরকম কিছু দেশ হচ্ছে-চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, বলিভিয়া, কলিম্বিয়া, ইকুয়েডর ।

৩. ডার্ক ওয়েব এর আন্ডারওয়ার্ল্ড অপরাধী, ডন, মাফিয়ারাও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য বিটকয়েনে লেনদেন করে যাতে সহজেই সবার দৃষ্টির অগচর হওয়া যায় । তাই এদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা হওয়ার ঝুকিঁও কম নয় ।

অনেকেই ফ্রিল্যান্স কাজ এর মাধ্যমেও বিটকয়েন উপার্জন করছেন অথবা বিটকয়েন এ সেইভিং করছেন ।তাদের জন্য কিছু সেরা বিটকয়েন সাইট যেখান থেকে নিজের ওয়ালেট বা একাউন্ট তৈরি করতে পারেন:
https://blockchain.info/wallet
https://www.coinbase.com/
https://www.changetip.com/

বি:দ্র: বর্তমানে অনেকে বিটকয়েন ট্রেড এ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী । এটি সম্ভাবনাময় লাভজনক বিনিয়োগ হলেও বিটকয়েন ট্রেড এ বিনিয়োগ করার পূর্বে এর সমস্ত খুটিনাটি জেনেই শুরু করা ভালো হবে ।

01 অগাস্ট উত্তর প্রদান

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 23 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 28 বার প্রদর্শিত
28 বার প্রদর্শিত
আমার সদস্যের ধরণ বিশেষজ্ঞ। অনেকের প্রশ্নে বানান ভুল এবং বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখতে পাই। বিশেষজ্ঞ হিসেবে কি আমি ঐ প্রশ্নটি সম্পাদনা করতে পারবো না?
01 অক্টোবর "অভিযোগ ও অনুরোধ" বিভাগে জিজ্ঞাসা GrManik
3 টি ভোট
1 উত্তর 61 বার প্রদর্শিত
61 বার প্রদর্শিত
আমি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার অনেক কনটেস্ট করেছি। কিন্তু আমার এখনো ব্যাংকে একাউন্ট নেই। আমি কি কাজের পেইমেন্ট পাবো কাজ করতে পারবো?
31 ডিসেম্বর 2018 "ব্যাবসা ও চাকুরী" বিভাগে জিজ্ঞাসা Mohammad Jabed
...