নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
35 views
asked in বিজ্ঞান by (1,625 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

2 Answers

1 like 0 dislike
answered by (1,625 points)
 
Best answer

থিওরি অব এভ্রিথিং

এতক্ষণ [২.৩.১ - ২.৩.৫] টিকে থাকা, অযোগ্য, যোগ্য - এই কথাগুলো বারবার এসেছে। এখন সেগুলোকে বিবর্তনবিদ্যার আলোকে একটু ব্যাখ্যা করা যাক। বিবর্তনবিদ্যায় কোনো পপুলেশনের ‘টিকে থাকার ক্ষমতা’কে বলে fitness, যা পরিমাপ করার অন্যতম উপায় প্রজনন-সাফল্য (reproductive success) নামক একটি রাশি। প্রজনন-সাফল্য আবার দুটি রাশির (ধরা যাক, r ও n) সমানুপাতিক। তাহলে, প্রজনন-সাফল্য f = k.r.n; যেখানে, n = একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে একটি নির্দিষ্ট পপুলেশনের যেকোনো সদস্য কমপক্ষে প্রজননক্ষম-বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকবে তার সম্ভাবনা, r = একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে একটি নির্দিষ্ট পপুলেশনের যেকোনো সদস্য সারাজীবনে গড়ে যতগুলো সন্তান উৎপাদন করে, k = সমানুপাতিক ধ্র“বক যা একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে একটি নির্দিষ্ট পপুলেশনের জন্য নির্দিষ্ট। একই রকম পরিবেশে একই প্রজাতির দুটি পপুলেশন A ও B আছে ধরা যাক। A এর প্রতিটি সদস্য সারাজীবনে গড়ে 1000 টি করে বাচ্চা দেয় এবং তাদের প্রজননক্ষম হয়ে ওঠা পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা 0.01। B এর প্রতিটি সদস্য সারাজীবনে গড়ে 75 টি করে বাচ্চা দেয় এবং তাদের প্রজননক্ষম হয়ে ওঠা পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা 0.2। তাহলে A এর প্রজনন-সাফল্য = k×0.01×1000 = 10k; B এর প্রজনন-সাফল্য = k×0.2×75 = 15k। লক্ষ্য করো, B এর টিকে থাকার ক্ষমতা A এর চেয়ে বেশি। যদিও A, B এর চেয়ে অনেক বেশি হারে সন্তান উৎপাদন করে কিন্তু সেগুলোর একটা বড় অংশ প্রজননের বয়স পর্যন্ত বাঁচে না। এক কথায় বললে, A তুলনামূলকভাবে অযোগ্য এবং B তুলনামূলকভাবে যোগ্য। ঠিক কতটা যোগ্য বা অযোগ্য তাও হিসেব করে বলে দেওয়া যায়। আবার যদি A এর n = 0.015 হতো তাহলে উভয়ের টিকে থাকার ক্ষমতা তথা প্রজনন-সাফল্য একই (= 15k) পেতাম। উল্লেখ্য, টিকে থাকার ক্ষমতা মাপার জন্য প্রজনন-সাফল্য হিসাব করাই একমাত্র পদ্ধতি নয়। তবে সেসব আজ থাক।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ‘সার্ভাইভ্যাল অব দি ফিটেস্ট’ বা ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ - কথাটি স্রেফ হেঁয়ালি ছাড়া কিছু নয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইভোলিউশন’ গ্রন্থে ঐ বিখ্যাত বাক্যাংশকে ‘মিসলিডিং হাফ-ট্রুথ’ বা ‘বিভ্রান্তিকর অর্ধসত্য’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত ছোটদের বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, “কে টিকে থাকে? যে যোগ্যতম। কে যোগ্যতম? যে টিকে থাকে। দেখা যাচ্ছে, বিবর্তন সম্পর্কে বহুল পরিচিত এই বাক্যটি সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। এটির প্রবক্তা দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার। তাঁর মতে, সমাজে যারা সুবিধাভোগী তারা যোগ্যতম, তাই বঞ্চিতদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের টিকে থাকাটা যুক্তিসঙ্গত। একে বলে সামাজিক ডারউইনবাদ (Social Darwinism), যা প্রকৃতপক্ষে ডারউইনের তত্ত্বের একটি ভূল ব্যাখ্যা।” টিকে থাকা বলতে বিবর্তনবিদ্যায় যা বোঝানো হয় তার সাথে এর প্রচলিত ভাষাগত অর্থের মিল সামান্যই। বিবর্তনবাদে টিকে থাকা বলতে কোনো প্রাণীর শুধু বেঁচে যাওয়াকে বোঝায় না। এখানে টিকে থাকা মানে বেঁচে থেকে অধিক পরিমাণ বাচ্চা দেওয়া এবং সেই বাচ্চাদের মধ্যে সব না হলেও অনেকগুলো বড় হয়ে বাচ্চা দেওয়ার মতো হতে পারা।

বিবর্তন কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বা দ্বারা পরিচালিত, পরিকল্পিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো প্রক্রিয়া নয়। আপেলের মাটিতে পড়া এবং পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণ - দুটোই যেমন এক মহাকর্ষীয় নিয়মে ঘটে চলা নিতান্ত প্রাকৃতিক ঘটনা, তেমনি বৈচিত্র্য, নির্বাচন আর বংশগতির নিয়মে বিবর্তন ঘটতে থাকে, আর দশটা সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মতোই। কিন্তু ভাষায় প্রকাশের সুবিধার্থে এবং ঐতিহাসিক কারণে আমরা অনেক কথা ভুলভাবে উপস্থাপন করে থাকি। যেমন: সূর্য ওঠা সূর্য ডোবা - কথাগুলো ভ্রান্ত ভূ-কেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বের ফসিল হিসেবে ভাষায় রয়ে গেছে। এরকম ঐতিহাসিক কারণে আমরা এখনও ইলেক্ট্রন প্রবাহ ও বিদ্যুত প্রবাহের দিককে পরস্পরের বিপরীত ধরে নিই। তেমনি বিবর্তনের বেলায়ও এমনধারা কথা চালু আছে। যেমন: স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকোষ উভয়-অবতল এবং নিউক্লিয়াস-বিহীন [১.৩.২ দ্রষ্টব্য] যাতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে - এই কথাটি থেকে মনে হতে পারে লোহিত রক্তকোষ বুঝি বেশ বুঝেশুনে বেশি বেশি অক্সিজেন পরিবহন করার ভবিষ্যত পরিকল্পনা মাথায় (!) রেখে বিশেষ রূপ নিয়েছে কিংবা কেউ বুদ্ধি করে কোষগুলোকে ওরকম করে বানিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি হলো: স্তন্যপায়ী পপুলেশন সমূহে লোহিত রক্তকোষের অসংখ্য বৈচিত্র্যের ভীড়ে উভয়-অবতল ও নিউক্লিয়াস-বিহীন প্রকরণটি প্রাকৃতিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে কারণ তা পর্যাপ্ত অক্সিজেন পরিবহন করে স্তন্যপায়ীদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

জীববিজ্ঞানের অন্য চারটি স্বীকার্যের [১.৩.১ দ্রষ্টব্য] তুলনায় বিবর্তনী স্বীকার্য একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিবর্তন, বিশেষত ডারউইনীয় বিবর্তন [২.৩.৩ দ্রষ্টব্য] হলো জীববিজ্ঞানের বিশ্বজনীন তত্ত্ব বা থিওরি অব এভ্রিথিং। ধরো পৃথিবী ভিন্ন কোনো গ্রহে (বা উপগ্রহে) বিজ্ঞানীরা প্রাণের খোঁজ করছেন। সেটার আবহাওয়া এবং পরিবেশ যদি হুবহু আমাদের পৃথিবীর মতো হয় তাহলে মোটামুটিভাবে ধরে নেওয়া যায় সেই গ্রহে প্রাণ থাকলে সে প্রাণের মূলনীতিগুলো আমাদের কাছে খুব একটা অচেনা মনে হবে না। তবে হুবহু মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা যেহেতু খুবই কম, সেহেতু আমাদেরকে আগে ঐ গ্রহের পরিবেশ, আবহাওয়া, ভূতত্ত্ব ইত্যাদি বেশ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারপর সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে প্রাণের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে এবং কোন কোন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে না সেগুলোর একটা তালিকা করতে হবে। কারণ অন্ধভাবে খুঁজলে কোনো লাভ নেই। আমাদেরকে আগে জানতে হবে আমরা কী খুঁজছি। উক্ত তালিকা আমাদের প্রাণের সন্ধানকার্যে অপরিহার্য গাইড-লাইন হিসেবে কাজ করবে। আমরা আগে থাকতে কখনোই নিশ্চিত হতে পারবো না যে সেই অজানা প্রাণ যদি থেকে থাকে তাহলে তা কোষ দ্বারা গঠিত হবে কী না, তার তথ্য জমা রাখার এবং সেই তথ্য কপি করার প্রক্রিয়া কেমন, কোন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সে শক্তি সংগ্রহ ও ব্যবহার করে অথবা সেই জীবের কোন কোন শারীরতাত্ত্বিক রাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে আর কোনগুলো থাকে না। কিন্তু আমরা একটা ব্যাপারে শুরু থেকেই নিশ্চিত থাকতে পারবো - সেই অজ্ঞাত জীবের এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে না যা তার পরিবেশের সাথে মানানসই নয়। এটি বিবর্তনী স্বীকার্যের একটি অণুসিদ্ধান্ত। একই সাথে আমরা এটাও নিশ্চিত থাকতে পারবো যে প্রাণ যেমনই হোক না কেন তার বৈচিত্র্য থাকবে, পরিবেশ দ্বারা নির্বাচিত হতে পারবে এবং তথ্য সঞ্চালনের কোনো না কোনো ব্যবস্থা থাকবে। কারণ তা না হলে পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে প্রাণ টিকতে পারে না, পরিবেশ বা প্রাণের ধরণ যাই হোক। তাই মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানে যদি একটি তত্ত্ব কাজে লাগে সেটি বিবর্তনতত্ত্ব। একে ভিত্তি করেই অন্যান্য তত্ত্ব প্রয়োগ করতে হবে। এই কথাটাই অন্যভাবে বলা যায়। আমরা যদি প্রাণকে গভীরভাবে বুঝতে চাই তাহলে বিবর্তনতত্ত্বের বিকল্প নেই।

উপরের অনুচ্ছেদের ঘটনাটি একশো আশি ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেওয়া যাক। যদি ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান কোনো প্রাণীই উল্টে পৃথিবীতে আসে তখন? সেক্ষেত্রে কী হতে পারে তা নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ব্লগে (http://www.cadetcollegeblog.com/small_mafia/28640) বেশ মজার একটা প্রবন্ধ পড়েছিলাম। তার অংশবিশেষ তুলে দিচ্ছি:

1 like 0 dislike
answered by (1,625 points)

“আসুন, মনে করি, যেকোনো কারণেই হোক, আপনি মানব ইতিহাসে প্রথম ব্যাক্তি যার সাথে ভিনগ্রহের কেউ (অর্থাৎ alien) সরাসরি যোগাযোগ করেছে। ... এই ভিনগ্রহীদের অবশ্যই জানাতে হবে যে আমরা আমাদের জীবজগতের - আমাদের নিজেদের বিবর্তনের ইতিহাস আবিষ্কার করেছি, এবং আরো অনুসন্ধান চালাচ্ছি। আপনার ব্যক্তিগত ধারণা মনের ভেতরেই রাখুন – ভুলেও তাদের চোখের (!) দিকে তাকিয়ে বলতে যাবেন না, যে এই মহাবিশ্ব শুধু আমাদের অর্থাৎ মানুষদের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে! অনেক বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করেন যে এটিই হবে সবচেয়ে জটিল ‘মহাবৈশ্বিক’ আই-কিউ পরীক্ষা - একটি প্রাণীগোষ্ঠী তাদের আত্মসম্মানকে ঠিক কোন উচ্চতায় ওঠায়। ‘আমরা সবাই ঈশ্বরের সৃষ্টি’ - আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাস কি তাই বলে? ঠিক আছে, কিন্তু এই গুরুত্বপুর্ণ কিছু মিনিটের জন্য আপনার বিশ্বাসকে মনের আড়ালেই বন্দী রাখুন, এবং নিচের ছবিটার মত কিছু একটা আঁকুন - যেখানে মানুষের একটি জটিল জৈবিক প্রাণী হিসেবে বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠবে। এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল পরীক্ষাটি সকল মানুষের হয়ে ফেল করবেন না, প্লীজ!”

পুনশ্চ: চেম্বার্স ডিকশনারির [২.৩.১ দ্রষ্টব্য] বিবর্তনের সংজ্ঞা, উল্লিখিত বাকি দুইটির চেয়ে নিকৃষ্টতর। অক্সফোর্ড এবং ওয়েবস্টার’স তবু বিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক কিছু বলেনি। কিন্তু চেম্বার্স যা বলেছে তা সংজ্ঞা তো হয়ই নি বরং বিবর্তনের মূল দর্শনের পরিপন্থী। প্রতিটি জীব তার নিজস্ব পরিবেশে ও সময়ে যে যে অবস্থায় টিকে ছিল, আছে এবং থাকবে, সেগুলোর প্রত্যেকটিই ঐ পরিবেশ ও সময়ের সাপেক্ষে জীবের উন্নত অবস্থা। জীবনের উচ্চস্তর-নিম্নস্তর বলে কিছু নেই। তবে অনেক সময় ঐতিহাসিক কারণে, বহুদিন আগে উদ্ভূত জীবকে নিম্নতরের জীব এবং অল্পদিন আগে উদ্ভূত জীবকে উচ্চস্তরের জীব বলা হয়ে থাকে। বিবর্তনের এই ‘উচুঁ’ স্তর শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মাপকাঠি নয়।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।
...