নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
3 like 0 dislike
25 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

2 Answers

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

ডারউইনীয় বিবর্তনের মূলনীতি

বিবর্তন বা Evolution যদিও আধুনিক জীববিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ কিন্তু এর অন্যান্য অনেক অর্থ থাকার [২.৩.১ দ্রষ্টব্য] দরুণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে ভেবেই হয়তো ডারউইন তাঁর প্রজাতির উৎপত্তি গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে একবার মাত্র ঐ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তাও শেষ অধ্যায়ে। বদলে তিনি ব্যবহার করেছেন descent with modification বা ‘পরিবর্তনসহ উত্তরাধিকার’ শব্দবন্ধটি। এটা আমাদের আধুনিক জীববিজ্ঞানে বিবর্তনের সংজ্ঞার [২.৩.২ দ্রষ্টব্য] কথা মনে করিয়ে দেয়। আসলে ইভোলিউশন শব্দটা বিবর্তন অর্থে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন স্যার চার্লস লায়েল ১৮৩২ সালে। তিনি ছিলেন ডারউইনের আমলের প্রথম সারির একজন ভূতাত্ত্বিক, যাঁর গবেষণা ডারউইনকে অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রচলিত অর্থে বিবর্তন শব্দটির ব্যবহার যদিও বেশিদিন আগের কথা নয়, তবে বিবর্তনের ধারণাটি কিন্তু বেশ প্রাচীন। প্রাচীন গ্রীক ও আয়োনীয় দার্শনিকেরা এটা জানতেন যে সময়ের সাথে সাথে জীবজগত একইরকম থাকে না। পরবর্তীতে বহু দার্শনিক ও বিজ্ঞানী এই ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন এবং কেন এমন হয় সেটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। চার্লস রবার্ট ডারউইন এবং আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস তাঁদের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের (Theory of Natural Selection) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিবর্তনের এমন একটি ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হন, যা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের [১.৫.১ দ্রষ্টব্য] পর্যায়ে পড়ে। তাঁদের আগে বিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অসংখ্য তত্ত্ব প্রস্তাবিত হয়েছিল কিন্তু কোনোটাই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হয়ে উঠতে পারেনি।

ডারউইন-ওয়ালেসের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মোদ্দাকথাটা একদম সোজা। এতোই সোজা যে তোমার মনে হতে পারে এই সামান্য ব্যাপার আবিষ্কার করতে মানুষের এতোদিন লাগলো কেন! ডারউইনীয় বিবর্তনের (Darwinian evolution) মূলনীতিটি হলো - “যদি কোনো পপুলেশনের [২.৩.২ দ্রষ্টব্য] সদস্যদের মধ্যে বৈচিত্র্য (variation) থাকে, সেই বৈচিত্র্যগুলোর উপর নির্বাচন (selection) কাজ করে এবং নির্বাচিত বৈচিত্র্যগুলো বংশগতি (heredity) প্রাপ্ত হয় তবে সেই পপুলেশনে অবশ্যই বিবর্তন ঘটবে।” যারা সাংকেতিক যুক্তিবিদ্যা এবং সেটতত্ত্ব জানো তাদের জন্য এই কথাটাকে গণিতের ভাষায় প্রকাশ করছি:

(variation) ∩ (selection) ∩ (heredity) ⊂ (evolution)

এখানে আমরা তিনটি শর্ত পাচ্ছি, ডারউইনীয় বিবর্তন হওয়ার জন্য যার প্রতিটিই পূরণ হওয়া চাই। সেই শর্তগুলো এবং আনুষঙ্গিক কিছু কথা বুঝলেই আমরা ডারউইনীয় বিবর্তনের মূলনীতি বুঝে ফেলবো।

প্রথম শর্ত - বৈচিত্র্য: একটা পপুলেশনের সব সদস্য যদি একই প্রজাতির হয় তবু তাদের প্রত্যেকের কিছু নিজস্বতা থাকবেই। সব গরু একরকম না, সব কাঁঠালগাছ একরকম না, সব মানুষ একই প্রজাতির সদস্য তবু দেখো মানুষে মানুষে কত ভিন্নতা, এমনকি একই প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়াগুলোও সব হুবহু একরকম হয় না। ব্যাক্টেরিয়ার কথাই ধরো। মনে করো, টিংকু মিয়ার ডায়রিয়া হলো। ডায়রিয়ার বহু কারণ আছে, তার মধ্যে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া একটি। ধরো, টিংকু মিয়ার ডায়রিয়ার কারণ ই. কোলাই সংক্রমণ। এখন টিংকু মিয়ার শরীরে ই. কোলাই-এর রোগসৃষ্টিকারী যে প্রকরণগুলো ঢুকে ডায়রিয়া করেছে তাদেরকে একসাথে একটা পপুলেশন বলা যায়। ঐ পপুলেশনে যতগুলো ই. কোলাই আছে তাদের প্রত্যেকেরই প্রত্যেকের সাথে কিছু না কিছু পার্থক্য আছে। কারো দৈর্ঘ্য হয়তো অন্য কারো চেয়ে এক মাইক্রণ বেশি। কারো আবার চলার গতি একটু কম। কেউ একটু বেশি লম্বাটে আবার কেউ সামান্য মোটা। কারো ফ্লাজেলার সংখ্যা দশটা বেশি তো কারো বিশটা কম।

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)

দ্বিতীয় শর্ত - নির্বাচন: ডায়রিয়া-আক্রান্ত টিংকু মিয়া যখন একটা ব্যাক্টেরিয়া-নাশক বা এন্টিবায়োটিক খেলো তখন উল্লিখিত বৈচিত্র্যগুলোর কোনোটাই ই. কোলাইয়ের বাঁচামরা নির্ধারণ করলো না। যে বৈশিষ্ট্যের তারতম্য বা বৈচিত্র্য তখন গুরুত্ব পেলো সেটা হলো - এন্টিবায়োটিকের বিষক্রিয়া সহ্য করার ক্ষমতা। অন্য অনেক বৈশিষ্ট্যের মতো এটাও সব ই. কোলাইয়ের সমান নয়। কেউ সামান্য এন্টিবায়োটিকেই অক্কা পায় আর কেউ চড়া ডোজেও দিব্যি হেসেখেলে থাকতে পারে। টিংকু মিয়ার শরীর হলো সেই পরিবেশ যেটা ডায়রিয়াওয়ালা ই. কোলাই পপুলেশনের আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে। এই পরিবেশে যখন একটা নতুন নিয়ামক, এন্টিবায়োটিক, যোগ হলো তখন ই. কোলাই পপুলেশনের বৈচিত্র্যের তালিকায় এমন একটা বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো, এন্টিবায়োটিক না থাকলে যার খোঁজ কেউ করতো না। অন্যভাবে বললে, এন্টিবায়োটিকের প্রভাবের উপর ভিত্তি করে আলোচ্য ই. কোলাই পপুলেশনের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে এখন মোটা দাগে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

১) যোগ্য (fit): এন্টিবায়োটিকের বিষক্রিয়া সহ্য করে টিকতে পারার সাথে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যাবলী।

২) অযোগ্য (unfit): এন্টিবায়োটিকের বিষক্রিয়া সহ্য না করতে পেরে মারা যাওয়া বা বংশবৃদ্ধি রহিত হয়ে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যাবলী।

৩) নিরপেক্ষ (neutral): এন্টিবায়োটিকের বিষক্রিয়ার সাথে সম্পর্কহীন বৈশিষ্ট্যাবলী। এরকম কিছু বৈশিষ্ট্য উপরের প্রথম শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে যোগ্য বৈশিষ্ট্যওয়ালা ব্যাক্টেরিয়াদের টিকে থাকার সম্ভাবনা অযোগ্য বৈশিষ্ট্যওয়ালা ব্যাক্টেরিয়াদের চেয়ে বেশি। নিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্যগুলো এখানে হিসাবে আনাও যা না আনাও তাই। অন্যভাবে বললে, এন্টিবায়োটিকের দ্বারা নির্বাচনের কারণে যোগ্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ই.কোলাইয়ের সংখ্যা বাড়বে এবং অযোগ্য বৈশিষ্ট্যস¤পন্ন ই.কোলাইয়ের সংখ্যা কমবে। যোগ্য, অযোগ্য, টিকে-থাকা ... এসব কথা বিবর্তনবিদ্যায় একটু ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা প্রচলিত ভাষার অর্থের চেয়ে আরো সুনির্দিষ্ট এবং পরিমাপযোগ্য কিছু রাশিকে বোঝায়। আপাতত সেটা না জানলেও চলবে। ২.৩.৫-এ আমরা অর্থগুলো জানবো।

তৃতীয় শর্ত - বংশগতি: সব না হলেও কিছু যোগ্য এবং অযোগ্য বৈশিষ্ট্য বংশগতির নিয়মে পরের প্রজন্মে চলে যাবে। অর্থাৎ এক প্রজন্মের জীন পুলে যোগ্য এবং অযোগ্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারক জীনের ফ্রিকোয়েন্সি পরের প্রজন্মের জীন পুলে যোগ্য এবং অযোগ্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারক জীনের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে মিলবে না। আলোচ্য উদাহরণে যোগ্য বৈশিষ্ট্যওয়ালা ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাড়তে থাকবে, সুতরাং বাড়বে সেই সংশ্লিষ্ট জীনের পরিমাণ বা ফ্রিকোয়েন্সিও। বিপরীতক্রমে অযোগ্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারক জীনের ফ্রিকোয়েন্সি কমবে। কারণ ঐ জীনের বাহকই যে সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। সুতরাং বিবর্তনের সংজ্ঞা [২.৩.২] অনুসারে এখানে বিবর্তন হচ্ছে।

এতক্ষণ জানলাম যে কোনো পপুলেশনে যদি উল্লিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকে তবে সেখানে ডারউইনীয় বিবর্তন অবশ্যম্ভবী। শর্তগুলো না থাকলে কেমন হবে?

১) পপুলেশনে যদি বৈচিত্র্য না থাকে অর্থাৎ সব সদস্য যদি হুবহু একরকম (যেমন: ক্লোন) হয় তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেউই যোগ্য বা অযোগ্য বলে নির্বাচিত হবে না। সবাই একই নম্বর পেলে তো আর মেধাতালিকা করা সম্ভব নয়! ফলে বৈচিত্র্য ছাড়া ডারউইনীয় বিবর্তন অসম্ভব।

২) নির্বাচন প্রক্রিয়া বলে কিছু না থাকলে সব বৈশিষ্ট্য পরের প্রজন্মে সমভাবে সঞ্চারিত হবে। ফলে এখানেও বিবর্তন হবে না।

৩) বংশগতি না থাকলে নির্বাচিত সদস্যরা পরের প্রজন্মে তাদের নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যগুলো সঞ্চারিত করতে পারবে না। ফলে নির্বাচনের ফল এক প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বিবর্তন হবে না।

এখন প্রশ্ন হলো এন্টিবায়োটিকের দ্বারা নির্বাচনের কারণে টিংকু মিয়ার শরীর নামক পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়া পপুলেশনে বিবর্তন ঘটার ফলাফল কী দাঁড়াবে? প্রতি প্রজন্মে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা, এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী নয় - এমন ব্যাক্টেরিয়ার তুলনায় বাড়তে থাকার কারণে কোনো এক প্রজন্মে গিয়ে দেখা যাবে ঐ এন্টিবায়োটিক আর ঐ ব্যাক্টেরিয়ার উপর মোটেই কাজ করছে না। অর্থাৎ ব্যাক্টেরিয়ার পুরো পপুলেশনটাই এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে গেছে। আমরা যে মাঝেমধ্যে শুনতে পাই অমুক এন্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। একই অসুখ সারাতে এখন আরো ‘হায়ার’ এন্টিবায়োটিক লাগছে। এর ব্যাখ্যা একমাত্র ডারউইনীয় বিবর্তন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারাই করা সম্ভব, যা এতক্ষণ আলোচনা করা হলো। তাহলে উপায়? বিবর্তনের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়ার উদ্ভব ঘটা ঠেকানোর কি কোনো উপায় নেই? উপায় আছে। এবং সেটা অবশ্যই ডারউইনীয় বিবর্তনকে ভিত্তি করে। আমরা দেখলাম যে বৈচিত্র্য, নির্বাচন ও বংশগতি এর যেকোনো একটাকে অকেজো করতে পারলেই সেই পপুলেশনে ডারউইনীয় বিবর্তন হবে না (অ-ডারউইনীয় বিবর্তন হতে পারে সেটা পরে আসছে)। প্রথম আর তৃতীয়টি অকেজো করার কোনো উপায় আমাদের জানা নেই, তবে দ্বিতীয়টির ব্যাপারে আমাদের কিছু করার সুযোগ আছে। যোগ্য বা অযোগ্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয় পরিবেশের এক বা একাধিক নিয়ামকের সাপেক্ষে। যদি এমন কোনো নিয়ামক পাওয়া যায় যার সাপেক্ষে পুরো পপুলেশনের সব সদস্য কমবেশি অযোগ্য তাহলে সেই নিয়ামককে পর্যাপ্ত সময় ও উপযুক্ত মাত্রায় কাজ করতে দিলে এক সময় কোনো এক প্রজন্মে এসে পপুলেশনের সমস্ত সদস্য পটল তুলবে। অন্যভাবে বললে, নির্বাচন সমস্ত সদস্যের উপর সমান প্রভাব ফেলবে এবং সেই প্রভাবটা পপুলেশনের জন্য শুভ নয়। বাজারে প্রচলিত যতগুলো এন্টিবায়োটিক আছে তার সবই আসলে একেক জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ার জন্য ওরকম মহাধ্বংসকারীর ভূমিকা রাখে। কিন্তু যদি এক জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ার জন্য আরেক জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ার ওষুধ দেওয়া হয়, কিংবা সঠিক এন্টিবায়োটিকই দেওয়া হলো কিন্তু তা পর্যাপ্ত মাত্রায় বা পর্যাপ্ত সময়কাল ধরে চালিয়ে যাওয়া হলো না - তখন ব্যাক্টেরিয়ার উপর এন্টিবায়োটিকের নির্বাচন সমানভাবে ধ্বংসকারীর কাজ করতে পারে না। ফলে কেউ অযোগ্য আর কেউ একটু কম অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। একটু কম অযোগ্য ব্যাক্টেরিয়াগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আরো যোগ্য হয়ে উঠতে থাকে। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে এন্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী  হয়ে ওঠাটা ব্যাক্টেরিয়ার মর্জিতে হয় না, অন্ধ প্রাকৃতিক নিয়মে এমনটা হওয়াই বরং অবশ্যম্ভবী। সাহিত্যিক রূপকার্থে বললে, ওদেরকে যদি ঝাড়ে-বংশে নির্মূল না করা হয় তাহলে প্রতি প্রজন্মে ওরা আরো প্রতিশোধ-পরায়ণ হয়ে ওঠে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিকের ‘কোর্স’ পূর্ণ করাটা ফরজ, এমনকি রোগলক্ষণ দূর হয়ে গেলেও।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।