নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
3 like 0 dislike
24 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

বিবর্তন বলতে যা বোঝানো হয়...

আধুনিক জীববিজ্ঞানে বিবর্তনের সংজ্ঞা হলো,

"…evolution can be precisely defined as any change in the frequency of alleles within a gene pool from one generation to the next."

−    Helena Curtis and N. Sue Barnes, Biology, 5th ed. 1989 Worth Publishers, p.974

অর্থাৎ, ১৯৮৯ সালে ওয়র্থ পাবলিশার্স কর্তৃক প্রকাশিত কার্টিস-বার্নস রচিত বায়োলজি বইয়ের পঞ্চম সংস্করণের ৯৭৪ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “... সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে গেলে বিবর্তন হলো কোনো একটি জীন পুলে এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির যেকোনো পরিবর্তন।”

এখানে বেশ কিছু খটোমটো শব্দ এসেছে, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওগুলোর অর্থ বেশ সোজা। চলো এখনই শিখে ফেলি।

Population: এই কথাটা সংজ্ঞায় সরাসরি উল্লেখ নেই তবে এবহব ঢ়ড়ড়ষ বুঝতে হলে আগে জানতে হবে জীববিজ্ঞানে পপুলেশন মানে কী। ধরো একটা জঙ্গলে একদল হরিণ আছে, যাদের মধ্যে যেকোনো স্ত্রী হরিণ ও যেকোনো পুরুষ হরিণ একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে। কোনো একটা কিছু করার ক্ষমতা থাকা মানে এই নয় যে সেই কাজটা সবসময় সবক্ষেত্রে করতে থাকা লাগবে। হরিণগুলো মিলিত হলে বাচ্চা দেবে, কিন্তু তাই বলে প্রত্যেক স্ত্রী ও পুরুষ হরিণ যখন-তখন মিলিত হতে থাকবে এমন কোনো কথা নেই। এমনটা সম্ভবও নয়। আসল কথা হলো হরিণ-দলের পুরুষ ও স্ত্রীগুলোর বৈশিষ্ট্য এমন যে তারা যে-ই যার সাথে মিলিত হোক না কেন, সন্তান উৎপাদন সম্ভব। সত্যি সত্যি সন্তান উৎপাদন করা নয়, বরং সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা শূণ্য অপেক্ষা বেশি থাকা - এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে হরিণের এই দলটাকে একটা পপুলেশন বলা যায়। আবার মেন্ডেল যে মটরের বাগান করেছিলেন সেই বাগানের সবগুলো মটর গাছ মিলেও একটা পপুলেশন হয়। কারণ বাগানের যেকোনো মটর গাছের যেকোনো ফুলের যেকোনো পরাগধানীর যেকোনো পুংরেণু, একই বাগানের যেকোনো মটর গাছের যেকোনো ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে সেখান থেকে নিষেক হয়ে নতুন একটা বীজ (সন্তান) তৈরির ক্ষমতা রাখে। যদিও মেন্ডেল নিজের ইচ্ছেমতো নিষেক ঘটাতেন এবং গবেষণার স্বার্থে সব ফুলের সাথে সব ফুলের নিষেক হতে দিতেন না, তবু এটা একটা পপুলেশন কারণ যেকোনো ফুলের সাথে যেকোনো ফুলের নিষেক হয়ে বীজ তৈরির সম্ভাবনা তো ঠিকই ছিল। পপুলেশন যে হরিণ বা মটরের মতো একই প্রজাতির জীবের সমষ্টি হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ব্যাক্টেরিয়ার কথাই ধরো। একই প্রজাতির দুটি ব্যাক্টেরিয়া যেমন পর¯পরের মধ্যে ডিএনএ আদান-প্রদান করে নিজেদের জীনকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিতে পারে তেমনি ভিন্ন কিন্তু কাছাকাছি প্রজাতির দুটি ব্যাক্টেরিয়াও একাজ করতে সক্ষম। মটরের বীজ তৈরি বা হরিণের সন্তান উৎপাদনও কিন্তু জীনের নতুন সজ্জা বানানোর প্রক্রিয়া। বাবার থেকে অর্ধেক জীন আর মায়ের থেকে বাকি অর্ধেক জীন সন্তানে এমন একটা কম্বিনেশন তৈরি করে যা বাবা ও মা উভয়ের থেকে ভিন্ন। তবে একই বা কাছাকাছি প্রজাতির জীব বাচ্চা উৎপাদন করতে পারলেই পপুলেশন হয় না। যেমন গাধা আর ঘোড়ার মিলনে উৎপন্ন খচ্চর সবসময়ই অনুর্বর হয় অর্থাৎ খচ্চর কখনোই সন্তান উৎপাদন করতে পারে না। কোনো পপুলেশনে এরকম হতেই পারে যে কিছু সন্তান অনুর্বর, কিন্তু ১০০% সন্তানই যদি অনুর্বর হয় তবে সেটাকে আর পপুলেশন বলা যায় না। তাই গাধার দল একটা পপুলেশন হতে পারে, ঘোড়ার দলও একটা পপুলেশন হতে পারে কিন্তু কিছু ঘোড়া আর কিছু গাধা নিয়ে গঠিত একটি দলকে একটিমাত্র পপুলেশনের পতাকাতলে আনা যাবে না। একই প্রজাতির জীব হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো কারণে তারা একেবারেই মিলিত হতে না পারে বা মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা শূণ্য হয় তবুও তাদেরকে একটা পপুলেশন বলা যাবে না। যেমন ডারউইনের গালাপাগোস অভিযানে তিনি দ্বীপপুঞ্জের একেকটি দ্বীপে ফিঞ্চ পাখির একেকটি পপুলেশন পেয়েছিলেন। একই প্রজাতির (ডারউইন অবশ্য প্রথমে প্রতিটি পপুলেশনকে ভিন্ন প্রজাতির পাখি ভেবেছিলেন, পরে নিজেকে শুধরে নেন) হলেও পাখিগুলো যেহেতু এক দ্বীপ থেকে উড়ে আশেপাশের দ্বীপে যেতে পারেনা সেহেতু সবগুলো দ্বীপ মিলিয়ে ফিঞ্চের একটা পপুলেশন বলে গণ্য করা যাবে না। মোটকথা, কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় বসবাসরত একই প্রজাতির বা কাছাকাছি প্রজাতির একদল জীবের পর¯পরের মধ্যে জীন আদান-প্রদান বা পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের উর্বর জীব উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলে ঐ দলটিকে একটি পপুলেশন বলে।

Allele frequency: উপরের আলোচনায় মটরের পপুলেশনের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। মটরের সাতজোড়া ক্রোমোজোমে কমপক্ষে (মটরের সব জীন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি) পঁয়ত্রিশটি জীন রয়েছে। উল্লেখ্য, মেন্ডেল এগুলোর মধ্যে সাতটিকে নিয়ে কাজ করেছেন [২.২.১ দ্রষ্টব্য]। এই পঁয়ত্রিশটি জীনের প্রতিটির কমপক্ষে দুটো করে অ্যালীল থাকলে মোট অ্যালীল সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে সত্তরটি। এখন ধরো তুমি টাইম মেশিনে করে মেন্ডেলের মটর-বাগানে পৌঁছে প্রতিটি গাছ থেকে একসেট (চৌদ্দটি) করে ক্রোমোজোম নিয়ে ফিরলে। যদি এক হাজার গাছ হয় তাহলে তোমার কাছে এখন চৌদ্দহাজার ক্রোমোজোম আছে। এখন সত্তরটি অ্যালীলের জন্য তুমি সত্তরটা আলাদা ঘর কাটলে। আরো যদি কোনো অ্যালীল পাও তার জন্য অতিরিক্ত একটা ঘর বরাদ্দ রাখলে ‘অন্যান্য’ নামে। এখন বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে তুমি একটা একটা করে অ্যালীল চিহ্নিত করা শুরু করলে এবং যে অ্যালীল যে ক’টা পাওয়া গেল সেটা সেই ঘরে দাগ কেটে হিসাব রাখলে। অ্যালীলগুলোর নাম যদি A1, A2, B1, B2, .... ইত্যাদি হয় তবে তোমার হিসাবটা দেখতে এরকম হবে-

A1 = ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। = 90

A2 = ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। = 104

B1 = ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। = 51

... ... ...

... ... ...

... ... ... ইত্যাদি।

অ্যালীলের মোট সংখ্যা এখানে কমপক্ষে 70 × 10000 = 70000, আচ্ছা কমপক্ষে নয়, হিসাবের সুবিধার্থে ধরে নিলাম ঠিক ঠিক 70000। তাহলে মোট অ্যালীল সংখ্যার তুলনায় A1 অ্যালীলের পরিমাণ কত ভাগ? 90 / 70000 = 0.0013 (প্রায়)। এটাই A1 এর অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সি। একইভাবে অ২ এর অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সি প্রায় 0.0015। কখনো কখনো অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সিকে জীন ফ্রিকোয়েন্সিও বলে যদিও তা কিছুটা ভুল। কারণ জীন ও অ্যালীল সমার্থক নয় [২.২.২ দ্রষ্টব্য]।

Gene pool: কোনো পপুলেশনে অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সির সম্পূর্ণ তালিকার নাম জীন পুল। অর্থাৎ আগের অনুচ্ছেদে আমরা পুরোদস্তুর একটা জীন পুল লিখে ফেলেছি। কোনো জীন পুলের সমস্ত অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সির যোগফল 1 হয়। কেন সেটা নিজেই ভেবে দেখো। যারা সম্ভাব্যতার গণিত এবং সংশ্লিষ্ট পরিভাষার সাথে পরিচিত তাদের জন্য একটা চিন্তার খোরাক দিচ্ছি। একটি জীন পুলকে এমন একটি sample space মনে করা যায়, যার প্রতিটি allele হলো এক একটি disjoint event এবং প্রতিটি allele frequency হলো ঐ event এর probability।

যারা সম্ভাব্যতার গণিতে আগ্রহী নও তাদের এটা নিয়ে আপাতত মাথা না ঘামালেও চলবে। তবে বলে রাখি, বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের গাণিতিক কাঠামোটি খুবই সুন্দর এবং তা সম্ভাব্যতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

আবার বিবর্তনের সংজ্ঞায় ফিরে আসি। ধরা যাক তুমি একটি জঙ্গলের হরিণ পপুলেশনের একটি প্রজন্মের জীন পুল তালিকাবদ্ধ করলে। তারপর তাদেরকে সন্তান উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিলে। অতঃপর সমস্ত সন্তানের জীন পুলের তালিকা করলে। আগের তালিকাটি যদি প্রথম প্রজন্মের জীন পুল হয় তবে পরের তালিকাটি হবে দ্বিতীয় প্রজন্মের জীন পুল। এখন এই দুই জীন পুল তুলনা করো। দেখো কোনো অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সি পাল্টে গেলো কিনা। একটা ফ্রিকোয়েন্সিও যদি পাল্টায় তবে সংজ্ঞা অনুসারে আমরা বলতে পারি, ‘আলোচ্য হরিণ-পপুলেশনে বিবর্তন হয়েছে’।

পুনশ্চ: অক্সফোর্ড কন্সাইজ সায়েন্স ডিকশনারি [২.৩.১ দ্রষ্টব্য] বিবর্তনের সংজ্ঞা হিসেবে যা বলছে সেটা আসলে বিবর্তনের অসংখ্য দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলের একটিকে খানিকটা ঘুরিয়ে বলা। বিদ্যুৎ কী জিজ্ঞাসা করলে যদি বলা হয়, বিদ্যুৎ হলো তাই যা দিয়ে আমরা বাল্ব জ্বালাই, তবে সেটা যেমন বিদ্যুতের সংজ্ঞা হলো না, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটা ফল বর্ণনা করা হলো মাত্র, তেমনি ঐ সংজ্ঞাটাও ঠিক সংজ্ঞা হয়নি। বক্তব্য যদিও সত্যি তবে উত্তর হিসেবে সেটা প্রশ্নমাফিক নয়। ওটাকে সংজ্ঞা হিসেবে মেনে নিলে বৃত্তীয় যুক্তির [১.৪.৪ দ্রষ্টব্য] খপ্পরে পড়তে হয়। উল্লেখ্য, ওয়েবস্টার’স ডিকশনারিও অনুরূপ বিভ্রান্তির শিকার। একই সাথে আরো একটি ত্রুটি এটায় আছে। ওয়েবস্টারে একই জীবের বেড়ে ওঠার সময়কার পরিবর্তনকে বিবর্তনের সংজ্ঞায় আনা হয়েছে, যদিও জীববিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলে পরিবর্ধন (Development)। বিবর্তন দিয়ে পরিবর্ধনকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, তার মানে এই নয় যে পরিবর্ধন হলো এক ধরণের বিবর্তন।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।