নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
20 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)

আণবিক জীববিজ্ঞানের মূলনীতি, পরিব্যক্তি এবং অন্যান্য

আণবিক জীববিজ্ঞানের মূলনীতি [২.২.৪ দ্রষ্টব্য] নামে পরিচিত জেনেটিক তথ্য সঞ্চারণের মডেলটাকে এভাবে দেখা যেতে পারে:

  •    ডিএনএ → ডিএনএ (রেপ্লিকেশন) : তথ্য শুধু কপি হয়, মিউটেশন ব্যতীত কোনো পরিবর্তন এতে হতে পারে না।
  •    ডিএনএ → আরএনএ (ট্রান্সক্রিপশন) : ডিএনএর ভাষা থেকে তথ্য আরএনএর ভাষায় পরিবর্তিত হয়। উভয় ভাষাই ‘ভাব’ প্রকাশের জন্য চারটি করে সংকেত ব্যবহার করে, তার মধ্যে শুধু একটি সংকেত আলাদা। তাই বলা যায় ডিএনএ ও আরএনএর ভাষা বেশ কাছিকাছি, অনেকটা বাংলা ও অসমীয়ার মতো। এই ধাপেও মিউটেশন হতে পারে।
  •   আরএনএ → প্রোটিন (ট্রানস্লেশন) : আরএনএর চার-অক্ষর বিশিষ্ট ভাষা থেকে প্রোটিনের কুড়ি-অক্ষর বিশিষ্ট ভাষায় জেনেটিক তথ্যের অনুবাদ হয়। এখানেও মিউটেশন-জনিত তথ্য-বিকৃতি ঘটতে পারে।

প্রোটিনকে সাধারণত স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইতে জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসেবে দেখানোর উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও তার আরও গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক ভূমিকা আছে। এনজাইমগুলোর প্রায় সবই প্রোটিন, আর এই এনজাইমগুলোই মূলত নির্ধারণ করে প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর গতি-প্রকৃতি এবং তা থেকেই নির্ধারিত হয় জীবের বৈশিষ্ট্যাবলী। কোনো জীবের গঠন থেকে আচরণ পর্যন্ত সবই এই বৈশিষ্ট্যগুলোর আওতায় পড়ে। তাই শুধু শুরুর ধাপ ও শেষের ধাপ রেখে এক কথায় প্রকাশের খাতিরে মাঝের ধাপগুলোকে যদি বাদ দেওয়া যায় তাহলে আমরা বলতে পারি: ডিএনএ → বৈশিষ্ট্য। ডিএনএর কার্যকরী এক একটি অংশ হলো জীন। তাই কথাটাকে এভাবে বললে আরো সঠিক হয়: জীন → বৈশিষ্ট্য। তবে জীন থেকে বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটার ক্ষেত্রে পরিবেশ একটি বড় নিয়ামক। উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে অনেক বৈশিষ্ট্য কখনো প্রকাশ পাবে না, জীনের মধ্যে বসে কেবল ঘুমাবে।

ট্রান্সক্রিপশন কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে উল্টোদিকেও ঘটতে দেখা যায়। যেসব ভাইরাসে জেনেটিক বস্তু হিসেবে শুধু আরএনএ থাকে তারা জীবকোষে আক্রমণ করার পর আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করে। এইচআইভি এই জাতীয় একটি ভাইরাস। এই উল্টো ট্রান্সক্রিপশনকে বলে reverse transcription. তাহলে আণবিক জীববিজ্ঞানের মূলনীতিকে শুধরে লেখা যায়: ডিএনএ → ডিএনএ ↔ আরএনএ → প্রোটিন

এখন একটা লাখ টাকার প্রশ্ন। আমার দেহের প্রতিটি কোষে হুবহু একই জেনেটিক তথ্য আছে। আমার চামড়ার কোষে যতগুলো ক্রোমোজোম আছে, সেই ক্রোমোজোমগুলোর যেটায় যেখানে যতগুলো জীন আছে এবং জীনগুলোতে ডিএনএর নিউক্লিওটাইড ক্রম যা আছে, মিউটেশনের কথা বাদ দিলে আমার যকৃত, শ্বেতরক্তকোষ বা নিউরণে ঠিক ততগুলো ক্রোমোজোম আছে, তার প্রতিটিতে একই জীনগুচ্ছ আছে এবং প্রতিটি অনুরূপ জীনের ডিএনএর নিউক্লিওটাইড ক্রমও অভিন্ন। তাহলে চামড়া কেন চামড়ার মতো, নিউরণ কেন নিউরণের মতো আর যকৃত কেন যকৃতের মতো? আমার আর তোমার কোষের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে কারণ তোমার আর আমার জেনেটিক তথ্যের মধ্যে ভিন্নতা আছে, কিন্তু আমার নিজের শরীরের (বা তোমার বা যেকোনো একটি জীবদেহের) সব কোষের সব বৈশিষ্ট্য তো এক ও অভিন্ন হওয়ার কথা! কিন্তু তা হয় না, তবে কি আণবিক জীববিজ্ঞানের মূলনীতিতে গলদ আছে? উঁহু! এর কারণ হলো: একটি নির্দিষ্ট জীবের সব কোষে মোট জেনেটিক তথ্য যদিও এক, তবে তার শরীরের একেক ধরণের কোষ একেক সেট জীনকে প্রকাশ করে এবং বাকি জীনগুলো সম্পর্কে কোনো আগ্রহ দেখায় না। তাই চামড়ার কোষে যদিও নিউরণের বৈশিষ্ট্য প্রকাশক জীনও আছে, তবে সে শুধু চামড়ার বৈশিষ্ট্য প্রকাশক জীনগুলোকে ট্রান্সক্রাইব ও ট্রানস্লেট করে। ডিএনএর অন্য কোনো অংশ যদি ট্রান্সক্রিপশন বা ট্রানস্লেশন হয়েও যায় তবে উৎপন্ন আরএনএ বা প্রোটিনের সেই অংশটুকু তৎক্ষণাত কেটে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। আবার নিউরণ, চামড়া বা যকৃতের বৈশিষ্ট্যসূচক জীনগুলোতে হাত লাগায় না। এ যেন সেই অসাধু ছাত্রদের মতো যারা পরীক্ষার পড়া নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং পরীক্ষার হলে খাতা অদল-বদল করে যার যে অধ্যায় পড়া আছে সে সেটুকুই কেবল উত্তর দেয়, কিন্তু শেষমেশ দেখা যায় খাতায় সবগুলো প্রশ্নেরই যথাযথ উত্তর লেখা হয়ে গেছে। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল অসুখে অনেক সময় একজাতীয় কোষ অন্য জাতীয় জীনগুলো প্রকাশ করা শুরু করতে পারে। এরকম অনধিকার চর্চার ফলে তখন দেখা যায় দেহের একজাতীয় কোষ অন্য আরেক জাতীয় কোষের মতো আচরণ করছে। ব্যাক্টেরিয়া সহ বিভিন্ন আদি এককোষী জীবে এমন ভাগ-ভাগ করে জীন প্রকাশ করার ব্যাপার নেই, কারণ কোষই তো একটা। বিবর্তনের ধারায় বহুকোষী জীব উদ্ভব হওয়ার পর থেকে এই ব্যবস্থা প্রাকৃতিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।