নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
26 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

2 Answers

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

নিউক্লিয়াসেই শেষ নয়

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে ঢুকতে চেয়ে নিউক্লিয়াসে ঢুকলাম কেন? ওসব কথা পরে হবে। ঢুকেছি যখন, তখন নিউক্লিয়াসের ভেতরটা আগে ভালো করে দেখে নিই।

বলে রাখা ভালো, নিউক্লিয়াস কিন্তু ‘অঙ্গাণু’ নয়, রীতিমতো কোষের একটা অঙ্গ। নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম আর কোষঝিল্লী - এই তিনটি হলো কোষের জীবিত অঙ্গ। এদেরকে একসাথে বলে প্রোটোপ্লাজম। (ঠিক যেমন রামায়ণের লক্ষণ ও শত্রুঘ্ন - এই দুই চরিত্রকে তাদের মায়ের নামানুসারে একত্রে সৌমিত্র বলা হতো!) কোষপ্রাচীর যে মৃত তা আমরা আগেই জেনেছি, এজন্য তা প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে পড়ে না। প্রোটোপ্লাজমের অন্যতম অংশ সাইটোপ্লাজম গঠিত হয় সাইটোসল (সাইটোপ্লাজমের জলীয় অংশ), অঙ্গাণু (রাইবোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষকঙ্কাল ইত্যাদি) ও কিছু জড়বস্তু (সালফার দানা, কোষীয় বর্জ্য ইত্যাদি) নিয়ে।

নিউক্লিয়াসের মধ্যে ইয়া মোটা গোছা গোছা দড়ি এমন জট পাকিয়ে রয়েছে যে কারো বাপের সাধ্য নেই সেই জট ছাড়ায়। এই দড়িগুলো হলো ক্রোমোজোম। কোষ বিভাজনের সময় সেই জট কিছুটা ছোটে এবং ক্রোমোজোমগুলো তখন আরো মোটা হয়। তখনই কেবল ক্রোমোজোমগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে সণাক্ত করা সম্ভব। বিভাজনের মেটাফেজ দশায় তা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। মানুষের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। (ফ্রুটফ্লাই বা Drosophila melanogaster এরও কিন্তু ক্রোমোজোম ২৩ জোড়া!) চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যানের ব্লেড গোনা যেমন অসম্ভব, আমরা যে নিউক্লিয়াসে ঢুকেছি তার ক্রোমোজোম কতগুলো সেটা এখন বোঝাও তেমনি অসম্ভব কারণ এই মুহূর্তে এখানে বিভাজন চলছে না। তাই ক্রোমোজোম গোণার চেষ্টা বাদ দিয়ে এসো ক্রোমোজোমে কী আছে আর কী ঘটছে সেগুলো খেয়াল করি। কোনো ক্রোমোজোমকে খুব কাছ থেকে কেমন দেখায় তা বলছি, মনে মনে মিলিয়ে নাও। দুই রীল সুতো নাও। এবার সুতো দুটোকে পরস্পরের চতুর্দিকে পেঁচাতে বা পাকাতে থাকো। অনেকটা খাতা বাঁধার সাদা-লাল রঙা পাকানো যে সুতো পাওয়া যায় সেরকম। পুরো দৈর্ঘ্যটা পাকানো শেষ হলে বেশ কিছু মার্বেল বল নাও। সেই বলগুলোর প্রতিটির চারটিকে পাকানো সুতোটার দুই প্যাঁচ করে দাও (প্রয়োজনে আঠা লাগাও) এবং এভাবে সুতোর মাঝে মাঝে মার্বেল গেঁথে মার্বেলের মালা বানাও। এবারে সেই মালাটা টেলিফোনের তারের মতো পাকিয়ে পাকিয়ে এমন করে ফেলো যাতে তার দৈর্ঘ্য অনেকটা কমে আসে এবং হঠাৎ করে দেখলে সবটা মিলে একটা অখণ্ড মোটা দড়ি মনে হয়। তারপর সেটাকে একটা রবারের দণ্ডের চারদিকে পেঁচিয়ে ভালো করে আটকে দাও। এখন যে মোটা লাঠির মতো একটা কিম্ভূতকিমাকার বস্তু পেলে সেটাই ক্রোমোজোম। একদম শুরুতে যে ডবল-সুতোর প্যাঁচ দিয়েছিলে সেটাই দ্বিসূত্রক ডিএনএ (DNA)। আর মার্বেল-টার্বেল ইত্যাদি আর সব হলো নানান রকম প্রোটিন অণু। ডিএনএ-র সুতোটা কত প্যাঁচের উপর প্যাঁচ তার উপর প্যাঁচ খেলো দেখেছো। ঐ প্যাঁচগুলো ধাপে ধাপে যেভাবে দিলে তাতে কত লম্বা একটা জিনিস কত ছোট্ট জায়গায় আঁটানো গেল তা বুঝেছ? কোনো ক্রোমোজোমের ডিএনএ অণুর সমস্তটা প্যাঁচ খুলে টানটান করে ধরলে তা মিটারখানেক লম্বা হবে! আর একটা কথা, ডিএনএ সাধারণত দুই-সুতোওয়ালা বা দ্বিসূত্রক (double stranded) হয়, কিন্তু প্রকৃতিতে একসূত্রক (single stranded) ডিএনএ-ও আছে। আবার, আরএনএ মূলত একসূত্রক তবে তা দ্বিসূত্রক হতে পারবে না এমন কোনো কথা নেই। ক্রোমোজোমের একটা অংশে ডিএনএ আর প্রোটিন মিলে একটা উল্লেখযোগ্য আকারের দলা পাকিয়ে থাকে। ঐ দলাটাকে বলে সেন্ট্রোমিয়ার। প্রতি ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার একটাই থাকে।

দেখো দেখো, ক্রোমোজোমে ডিএনএর ঐ আঁটোসাটো প্যাঁচের মধ্যে মধ্যে কোথাও হঠাৎ প্যাঁচগুলো আলগা হচ্ছে। আর তা হওয়ামাত্র ওখানে একটা সুতো গজাচ্ছে। সেই সুতোটা হলো একরকমের আরএনএ, যা ডিএনএর প্যাঁচ-শিথিল-হওয়া অংশের জেনেটিক সংকেতটির প্রতিলিপি। পরক্ষণেই আবার ডিএনএর শিথিল অংশে আগের মতোই শক্ত প্যাঁচ পড়ে যায়। আরএনএর গাঠনিক উপাদানগুলো সবসময়ই ব্রাউনীয় গতিতে ছোটাছুটি করছে, যেখানে ডিএনএকে আলগা পাওয়া গেল সেখানেই তাদের জড়ো হয়ে প্রতিলিপি তৈরির যে বিক্রিয়া, সেটা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে তৈরি হয় আরএনএ। সাইটোপ্লাজমে থাকা অবস্থায় আমরা নিউক্লিয়ার পোর দিয়ে এরকম আরএনএ অণুকে বেরিয়ে আসতে দেখেছিলাম, যেগুলো রাইবোজোমে যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরির সংকেত দিচ্ছিল। নিউক্লিয় ঝিল্লীর সবগুলো ছিদ্র কিন্তু সাইটোপ্লাজমে উন্মুক্ত হয়নি। কোনো কোনোটা আবার সরাসরি এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের অন্দরমহলে যাবার রাস্তা। এজন্যেই এন্ডেপ্লাজমিক রেটিকুলামের ভেতরে ঢুকবার জন্যে আমরা নিউক্লিয়াসে ঢুকেছি। ওরকম একটা ছিদ্র দিয়ে চলো এবার এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের ভেতরবাড়িতে যাওয়া যাক।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে যখন রাইবোজোম বসে না, অর্থাৎ যখন তা মসৃণ থাকে, তখন তার মধ্যে লিপিড ও শর্করা নিয়ে কাজ-কারবার চলে। আর রাইবোজম বসার পর, অর্থাৎ অমসৃণ হলে পরে সে মেতে ওঠে প্রোটিন নিয়ে। আমরা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের যে অংশে ঢুকেছি সেটা এখন প্রোটিন নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিনিয়ত ভেতরের দেয়াল ফুঁড়ে প্রোটিন অণু ভেতরে জমছে। কোনো কোনোটা আবার পুরো দেয়াল ভেদ না করতে পেরে দেয়ালের মাঝখানেই আটকা থাকছে। প্রোটিন অণু ভেতরে ঢুকে নানান রকম এনজাইমের পাল্লায় পড়ে পরিবর্তিত হচ্ছে। ভেতরে ঢোকার সময় অণুগুলো যেমন সরলরৈখিক ছিল, তেমনটা আর থাকছে না। কুকুরের বাঁকা লেজ যেমন ছেড়ে দেওয়ামাত্র কুণ্ডুলী পাকিয়ে যায়, প্রোটিন অণুগুলো তেমনি এক একটি কুণ্ডুলী-পাকানো দলায় পরিণত হচ্ছে। দেয়ালের এক অংশ দেখো বাইরের দিকে ফুলে উঠছে। ওখানে আসলে ভেসিকল তৈরি হচ্ছে। ঐ ভেসিকলের বাহনে করে প্রোটিন অণুগুলো কোথাও যাবে। চলো আমরাও সেই যাত্রায় সঙ্গী হই। ভেসিকল গঠন সম্পূর্ণ হয়ে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই আমরা লাফিয়ে ওটার মধ্যে ঢুকে গেলাম। তার পরপরই সেটা বিচ্ছিন্ন হয়ে কোষকঙ্কালের বোপওয়ে ধরে চলা শুরু করলো। ভেতরে প্রোটিন অণুর ছড়াছড়ি, মাঝে আমরা ক’জন। ভেসিকলের দ্বিস্তরী লিপিড ঝিল্লী দিয়ে ঝাপসাভাবে বাইরে সাইটোপ্লাজমের নানা জিনিস দেখা যাচ্ছে। ঐ তো কয়েকটা মাইটোকন্ড্রিয়া দেখা গেল, ঐ তো সেন্ট্রোজোম। আমাদের কোষটা যদি ব্যাক্টেরিয়া হতো তাহলে আমরা এমন কোনো অঙ্গাণু পেতাম না যেটা ঝিল্লীবিশিষ্ট। অর্থাৎ সেখানে মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, কোষ গহ্বর - ইত্যাদি কিছুই নেই। এমনকি নিউক্লিয়াসও নেই। আছে শুধু একটুকরো ক্রোমোজোম, কয়েক টুকরো বৃত্তাকার ডিএনএ আর কিছু রাইবোজোম, সেই সাথে প্রোটিন তৈরির জন্য ন্যূণতম যা কিছু লাগে। ও হ্যাঁ, কোষীয় জড়বস্তুও থাকে কিছু। মাইটোকন্ড্রিয়া নেই, তাহলে শক্তি উৎপাদন কীভাবে হয়? তার উত্তর যথাসময়ে পাওয়া যাবে। আপাতত আমাদের ভেসিকল থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখি। আশেপাশে চলমান আরো বহু ভেসিকল রয়েছে। তবে তাদের সাথে ধাক্কা লাগলে কিছু হবে না, আমরা জানি। চলতে চলতে আমাদের ভেসিকলটা কিসের যেন একটা দেয়ালে গিয়ে ঠেকলো। আমরা গলজি বস্তুতে এসে পৌঁছেছি।

ভেসিকলের লিপিড ঝিল্লীটা আস্তে আস্তে গলজি বস্তুর দেয়ালের সাথে মিশে গেল। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের দেয়ালের একটা অংশ ছিঁড়ে যখন ভেসিকল হিসেবে বের হয়, তখন সেটাকে ভিডিও করে তারপর রিওয়াইন্ড করলে যেমনটা দেখাবে, ভেসিকলটার ঐ দেয়ালে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা তেমনই। লক্ষ্য করো. ভেসিকলের মাধ্যমে যে শুধু কোষের বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রোটিন আদান-প্রদান হয়, তা নয়। এতে করে প্রতিনিয়ত কোষের ঝিল্লীবিশিষ্ট অঙ্গাণুগুলো, কোষঝিল্লী ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে ঝিল্লীর অংশ বিনিময় হয়। যাহোক, এই প্রক্রিয়ায় আমরা গলজি বস্তুর ভেতরে ঢুকে গেলাম। গলজি বস্তুর মধ্যেও দেখো নানা বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রোটিন অণুগুলোর মাজাঘষা চলে। এখান থেকেই নির্ধারিত হয়, কোন প্রোটিন কোথায় যাবে। তারপর গলজি বস্তু থেকে উৎপন্ন ভেসিকল গুলো সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রোটিনগুলোকে বয়ে নিয়ে যায়। মুক্ত রাইবোজোমে উৎপন্ন প্রোটিনগুলোর অবশ্য গলজি বস্তুতে আসার কোনো সুযোগ নেই। সেগুলোকে ভেসিকল ছাড়াই তাদের গন্তব্যে যেতে হয়।

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
কোষের প্রোটিন তৈরি ও পরিবহনের পুরো ব্যাপারটাকে আরো একবার ঝালিয়ে নিই:

ডিএনএর নির্দেশের প্রতিলিপি বহন করে গঠিত হওয়া আরএনএ রাইবোজোমকে যে সংকেত প্রদান করে তার ভিত্তিতে রাইবোজোম যাবতীয় প্রোটিন অণু তৈরি করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের ভেতরে জমা করে। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে প্রোটিনের কিছু পরিবর্তন ঘটার পর তার কোনো কোনোটা গলজি বস্তুতে যায়। গলজি বস্তুতে নির্ধারিত হয় যে প্রোটিন অণুর কোনটা কোথায় যাবে। গলজি বস্তু থেকে সেই মোতাবেক কোনো প্রোটিন যায় লাইসোজোমে, কোনোটা কোষঝিল্লীতে ইত্যাদি। এমনকি কোনো কোনো প্রোটিন আবার ফিরে যায় এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামেই।  অবশ্য এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে প্রোটিন সরাসরি লাইসোজোম, কোষঝিল্লী ইত্যাদি অংশে যেতে পারে। এতোসব পরিবহন ঘটে ভেসিকলের মাধ্যমে। আর মুক্ত রাইবোজোমে উৎপন্ন প্রোটিনের ওরকম কোনো গাড়িঘোড়া নেই। বেচারা সেই অণুগুলোকে ‘পায়ে হেঁটে’ চলে যেতে হয় নিজ নিজ গন্তব্যে - মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস বা পারঅক্সিজোমে। কেউ কেউ আবার কোনো অঙ্গাণুতে না গিয়ে সাইটোসলেই বসে থাকে বা টো-টো করে ঘুরে বেড়ায়। ব্যাক্টেরিয়ার বেলায় এতো ঝামেলা নেই। কারণ তাদের কোনো ঝিল্লীবিশিষ্ট অঙ্গাণুই নেই। তাদের বেলায় ডিএনএ থেকে সংকেতবাহী আরএনএ সরাসরি রাইবোজোমে প্রোটিন তৈরি করায় এবং সেই প্রোটিন সাথে সাথে জায়গামতো চলে যায়।

এবার আমরা কোষ থেকে বেরিয়ে যাবো। এজন্য গলজি বস্তুর এমন একটা ভেসিকলে চড়া যাক যেটার গন্তব্য কোষঝিল্লী। ওরকম একটা ভেসিকলে চড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা নিজেদেরকে আবিষ্কার করলাম কোষের বাইরে। ও হো! মাইটোকন্ড্রিয়ার শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াটা দেখবার কথা একেবারে ভুলে গেছি। তোমরা কেউ আমাকে মনে করিয়ে দিলেও তো পারতে!
নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।