নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
22 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

1 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

চলো যাই কোষের ভেতর

স্কুল-কলেজে ব্যবহারিকে আমরা অণুবীক্ষণে সাধারণত মৃত কোষ দেখি। তাছাড়া, ঐ অণুবীক্ষণগুলোর বিবর্ধন এতো কম যে কোষঝিল্লী, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস ছাড়া আর কিছু ভালো করে বোঝাও যায় না। তাই ঐ ব্যবহারিক ক্লাসে কোষের দুরন্ত অন্দরমহল সম্পর্কে কোনো ধারণা করা সম্ভব হয় না। সেজন্য ঠিক করেছি তোমাদেরকে নিয়ে কোষের ভেতরটা ঘুরে আসবো। সেখানে কী হচ্ছে না হচ্ছে সব খোঁজখবর নিয়ে আসবো। রেডি? ছুঁ মন্তর ছুঁ! এখন আমাদের সবার আকৃতি এতো ছোটো হয়ে গেছে যে ইলেক্ট্রন অণুবীক্ষণ ছাড়া আমাদেরকে দেখা যাচ্ছে না। চলো এখন সুবিধামতো কোনো কোষ দেখে ঢুকে পড়ি।

যে কোষটাতে আমরা ঢুকবো সেটা যদি উদ্ভিদকোষ হয় তাহলে প্রথম বাধাটি হবে কোষ প্রাচীর (cell wall)। উদ্ভিদকোষের মতো ব্যাক্টেরিয়ারও কোষ প্রাচীর থাকে। অবশ্য বাধা হিসেবে কোষ প্রাচীর তেমন যুৎসই নয়। আমাদের কাছে কোষ প্রাচীর যেমন, পিঁপড়ার কাছে কয়েক পরত উলের বুনটও তেমন, যে বুনোটগুলোর মাঝে মাঝে ঢুকে পড়ার মতো যথেষ্ট ফাঁক আছে। তবে এটা মানতেই হবে বুনোটগুলো বেশ শক্তিশালী, সহজে ছিঁড়বে না। কিন্তু ঐ ফাঁকগুলোর জন্য সব রকম পদার্থকণা কোষপ্রাচীরের এক পাশ থেকে অন্যপাশে সহজে যাতায়াত করতে পারে। কেবল ফাঁক গলে ঢুকে যেতে পারলেই হলো। কোষপ্রাচীরের পরের বাধাটা কোষঝিল্লী (cell membrane)। প্রাণীকোষ হলে প্রথম বাধা হবে কোষঝিল্লীটাই, কারণ প্রাণীকোষে কোষপ্রাচীর নেই। কোষঝিল্লী কিন্তু কোষপ্রাচীরের মতো মৃত নয়, রীতিমতো জীবন্ত। প্রতিমুহূর্তে সেখানে হাজার রকম পরিবর্তন হচ্ছে। অতিক্রম করতে দেওয়ার ব্যাপারে কোষঝিল্লী অতো দিলদরিয়াও নয়। কাকে যেতে দেবে আর কাকে দেবে না সে ব্যাপারে তার বড়ই শুচিবাই আছে।

আমরা কোষঝিল্লীর বাইরের পাশটায় কী দেখতে পাবো? মনে মনে কল্পনা করো একটা গ্লাসে সফ্ট ড্রিংক আছে এবং তার উপরিতলে তেল ঢেলে দেওয়া হলো। তাহলে দেখা যাবে, ড্রিংকের উপরে তেলের একটা স্তর পড়েছে। এবার তার উপরে কাঠ, লোহা, মরিচ, হলুদ ইত্যাদির গুঁড়ো এবং ছোট-বড় দানা ছড়িয়ে দাও। কয়েক টুকরো সুতো আর খড়ও ছেড়ে দাও তার মধ্যে। খেয়াল করো, ড্রিংকের তলা থেকে ক্রমাগত বুদ্বুদ উঠে তেলের উপরিতলে এসে ভাঙছে। সেই বুদ্বুদের সাথে মাঝেমধ্যে গ্লাসের তলা থেকে গুঁড়ো বা দানার কিছু অংশ উঠে আসছে যেগুলো তলানি পড়ে ছিল। একটা খুবই ছোট্ট পোকা ঐ গ্লাসের কিনার থেকে পুরো ব্যাপারটাকে যেমন দেখবে, আমরাও কোষঝিল্লীর বাইরের পাশটাকে অনেকটা ঐরকম দেখবো। সেখানে ড্রিংকের জায়গাটায় থাকবে সাইটোপ্লাজম। তেলের স্তরটা আসলে কোষঝিল্লির লিপিড অংশ। ভাসমান নানা পদের গুঁড়ো, দানা আর সুতো-খড় হলো ঝিল্লির প্রোটিন (membrane protein)। ভেসে ওঠা বুদ্বুদগুলো হলো ট্রান্সপোর্ট ভেসিকল যা কোষের ভেতর থেকে নানা জিনিস, মূলত বিভিন্ন রকম প্রোটিন ও বর্জ্য, বাইরের তলে নিয়ে আসছে। এই বর্ণনাটার সাথে কিন্তু তোমরা পরিচিত, যদি উচ্চমাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান পাঠ্যবই পড়ে থাকো। এটাই সেই ‘ফুইড মোজাইক মডেল’! সত্যি!!!

কোষঝিল্লীর স্তরটা তেলের স্তর কিন্তু তার ভেতরেও পানি (সাইটোসল) বাইরেও পানি (আন্তঃকোষীয় তরল)। তাই সেইসব জিনিসেরই সবচেয়ে নির্ঝঞ্ঝাটে কোষঝিল্লীর এপাশ-ওপাশে যাতায়াত করা সম্ভব যাদের বৈশিষ্ট্য এমন যে, প্রথমে তেলে গুলে গিয়ে পরে পানিতে মিশে যেতে পারে কিংবা তার উল্টোটা করতে পারে। এই যেমন অক্সিজেন অণু। আবার, কিছু জিনিস আছে যারা তেলে মোটেই গুলে না তারপরও ঝিল্লী অতিক্রম করতে পারে। সেটা কীভাবে সম্ভব? তেলের উপরে যে দানাগুলো (অর্থাৎ ঝিল্লী প্রোটিন) ভাসছিল, ধরো তার কোনো কোনোটা তেলের স্তরের একপাশ থেকে অপরপাশ পর্যন্ত স্তরটির সম্পূর্ণ পুরুত্ব জুড়ে রয়েছে এবং ঐ দানার মধ্যে একটা ফুটো আছে - সেটাও একদম একপাশ থেকে অপরপাশ অব্দি। কোনো জিনিস যদি ঐ ফুটোর একপাশ দিয়ে ঢোকে তবে তার পক্ষে সোজা সুড়ুৎ করে অপরপাশে চলে যাওয়া সম্ভব, তেলের স্তরের সংস্পর্শে না এসেই। পাহাড়ের পেটের ভেতর দিয়ে একপাশ থেকে অন্যপাশ পর্যন্ত যেমন টানেল তৈরি করা থাকে, তেমনি। এরকম টানেলওয়ালা ঝিল্লী প্রোটিন গুলোর মাধ্যমে তাই এমন সব জিনিস ঝিল্লীকে অতিক্রম করতে পারে যেগুলোর পক্ষে অন্যকোনো ভাবে লিপিড স্তর পার হওয়া অসম্ভব ছিল। এরকম ঝিল্লী প্রোটিনকে বলে চ্যানেল প্রোটিন। তবে এখানে একটা কিন্তু আছে। এক এক প্রকার চ্যানেল প্রোটিন এক এক প্রকার জিনিস পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট। যেমন: যে প্রোটিন সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নকে ঝিল্লী অতিক্রম করায় তার পক্ষে ক্যালসিয়াম আয়নকে যেতে দেওয়া সম্ভব নয় এবং উল্টোটাও সত্যি। আরো একভাবে পদার্থ কোষের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে পারে। কোষঝিল্লী কিছু বিশেষ পদার্থকে হঠাৎ করে ঘিরে ধরে সেটাকে কোষের মধ্যে টেনে নিতে পারে। এই প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস (পদার্থটি কঠিন হলে) বা পিনোসাইটোসিস (পদার্থটি তরল হলে)। এভাবে বেশ বড় আকারের জিনিসও কোষের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। তবে ঐ জিনিসের রাসায়নিক গঠন উপযুক্ত হলেই সেটা সম্ভব। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোষঝিল্লী অতিক্রম করা এমন একটা দেশের ভিসা পাওয়া পাওয়ার মতো ব্যাপার যার অভিবাসন আইন বেশ কড়া। এজন্যেই কোষঝিল্লীকে অর্ধভেদ্য (semipermeable) বলে।

ধরো আমরা কোনো চ্যানেল প্রোটিন দিয়ে কোষঝিল্লীটা অতিক্রম করে কোষের ভেতরে ঢুকলাম। এবার?

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।