নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
20 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

কোষতত্ত্বের মূলনীতি

যেসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোষতাত্ত্বিক স্বীকার্যটি তৈরি হয়েছে সেগুলো হলো:

১)    প্রতিটি জীব এক বা একাধিক কোষ দিয়ে তৈরি।

২)    জীবের গাঠনিক, কার্যগত এবং সাংগঠনিক স্তরীয় একক হলো কোষ।

৩)    প্রতিটি কোষ আসে তার পূর্ববর্তী কোনো কোষ থেকে।

কেউ যদি কোষতাত্ত্বিক স্বীকার্যকে ভূল প্রমাণ করতে চায় তাহলে এই তিনটির অন্তত একটিকে মিথ্যা দেখানোই যথেষ্ট। তবে সেটা করা কঠিনই হবে, কারণ এখন পর্যন্ত যা কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তার সবই এগুলোর পক্ষে যায়। যেমন:

১)    এমন কোনো জীব নেই যা কোষ দিয়ে গঠিত নয়।

২)    জীবদেহে কোষ ছাড়াও যেসব অকোষীয় পদার্থ থাকে (যেমন: গাছের বাকল, আঙ্গুলের নখ, রক্তের রক্তরস, শামুকের খোলক ইত্যাদি) সেগুলো কোষ থেকে উৎপন্ন হয়।

৩)    এমন কোনো জীব পাওয়া যায়নি যার কোষ বিভাজন ঘটে না।

৪)    যাবতীয় বিপাক ক্রিয়া কোষের মধ্যে ঘটে, বাইরে নয়।

৫)    কোষের মধ্যে ডিএনএ তে জেনেটিক তথ্য থাকে যা কোষ বিভাজনের সময় অপত্য কোষে বাহিত হয়।

৬)    দুটি প্রজাতির মধ্যকার সাদৃশ্য যত বেশি, তাদের কোষের মধ্যকার সাদৃশ্যও তত বেশি।

৭)    কোনো জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে তার প্রতিটি কোষের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং (জীবটি বহুকোষী হলে) সবগুলো কোষের পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার যোগফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

... ইত্যাদি ইত্যাদি ... এই ফর্দ আরো লম্বা করা যায় তবে আপাতত এটুকুই থাক।

ভাইরাস জীব কিনা সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এটুকু নিয়ে কারো দ্বিমত নেই যে, জীবিত কোষের সংস্পর্শে আসলেই কেবল ভাইরাসের জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেখানে জীবিত কোষ নেই সেখানে জীবিত ভাইরাসও থাকতে পারে না। এই প্রশ্নও মনে আসা স্বাভাবিক যে প্রতিটি কোষই যদি তার পূর্বসুরী অপর একটি কোষ থেকে আসে তাহলে প্রথম কোষটি কোত্থেকে এলো? সেখানে কি কোষতাত্ত্বিক স্বীকার্য খাটে? এই প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো জানিনা।

পাঠ্যবইতে সাধারণত কোষের যেমন চিত্র ও বর্ণনা থাকে তাতে করে পাঠকের মনে কোষ সম্পর্কে একধরণের অবাস্তব ধারণা গড়ে ওঠা অসম্ভব নয়। অনেক ছাত্রছাত্রীই মনে করে, কোষ বুঝি স্থির একটা কিছু। নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়াসের জায়গাতেই আছে এবং থাকবে, মাইটোকন্ড্রিয়াগুলো সাইটোসলের মধ্যে একটু আধটু এদিক-সেদিক ভাসতে পারে কিন্তু কোষ ঝিল্লীটা ঘরের চারদেয়ালের মতো অব্যয়। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন আসবাবের অবস্থান ও আকার-আকৃতির বিশেষ পরিবর্তন হয় না, সোফাটা আচানক টেবিলে কিংবা টেবিলটা আলমারিতে পরিণত হয়না, কোষের ভেতরকার কলকব্জাগুলোও তেমনি মোটের উপর স্থির। কিন্তু বাস্তবতার সাথে তুলনা করলে এর চেয়ে ভূল ধারণা আর কিছু হতে পারে না। একটি জীবিত কোষকে যদি ইলেক্ট্রন অণুবীণের নিচে দেখা যায় তবে আমরা দেখতে পাবো কোষের ভেতরে রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ চলছে। ভেতরের ক্ষুদে অংশগুলো যেন তুর্কী নাচন নাচছে। এক মুহূর্ত বিরাম নেই। হুঁশও নেই। কেউ পাগলের মতো দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটছে। কেউবা জায়গায় দাঁড়িয়ে বনবন করে ঘুরছে। কেউবা থরহরিকম্প। কেউ আবার বহুরূপী। এই একরকম দেখা গেলো তো চোখের পলকে গেল পাল্টে। এরটার কিছু অংশ ছিঁড়ে ওরটার সঙ্গে লাগছে। আবার পরক্ষণেই তা গায়েব। ওরকম দুনিয়ায় যেন কারো পক্ষেই তাল ঠিক রাখা সম্ভব নয়।

কোষের ভেতরে বিপাকক্রিয়ায় যে অগণিত রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রতিনিয়ত ঘটছে সেগুলো সম্পর্কেও ধারণাটা একটু ঘষামাজা করার দরকার আছে। পাঠ্যবই পড়লে মনে হয় বুঝি বিক্রিয়াগুলো কেমন সুন্দর একের পর এক ধাপে ধাপে সংঘটিত হচ্ছে! বিক্রিয়ক অণুগুলোকে যেন কেউ কঠোরভাবে পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোষের ভেতরে মুক্ত অণুগুলো সব ব্রাউনীয় গতির* কারণে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে। ব্রাউনীয় গতিজনিত উন্মাদ বিশৃঙ্খলার মধ্যে বিক্রিয়াগুলো আর নিশ্চিত বা পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়, বরং দূর্ঘটনাই বলা যায়। অণুগুলোর মধ্যকার বিক্রিয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে তাদের রাসায়নিক আসক্তি, ঘনত্ব, মাধ্যমের রাসায়নিক গঠন আর এনজাইমের উপর। আবার, তাপমাত্রা যেহেতু অণুর গতিকে প্রভাবিত করে, সেহেতু বিক্রিয়ার হারকেও সে প্রভাবিত করতে পারে। মনে রাখতে হবে, যে বিক্রিয়াগুলো বইতে উল্লেখ আছে, তার বিপরীত বিক্রিয়াগুলোও চলছে। এমনকি এমনসব বিক্রিয়াও চলছে যার বিপরীত বিক্রিয়া পর্যন্ত পাঠ্যবইতে উল্লেখ নেই। তবে সেগুলো এতো কম পরিমাণে ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা এতো কম যে আমরা সেগুলোকে অগ্রাহ্য করতে পারি। যেসব বিক্রিয়া ঘটার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি সেগুলোই ধাপে ধাপে সাজিয়ে বইতে লেখা থাকে যাতে বিক্রিয়ার ঐ গোলমেলে অবস্থার কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় অংশগুলোতে মনোযোগ দেওয়া যায়।

তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে ভাসমান কোনো ক্ষুদ্র কণা ঐ মাধ্যমের অণুগুলোর যাদৃচ্ছিক (random) ধাক্কাধাক্কির কারণে যাদৃচ্ছিকভাবে স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। এটাই ব্রাউনীয় গতি (Brownian motion)। স্কটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট ব্রাউন এর আবিষ্কর্তা। তিনি কোষের নিউক্লিয়াসের আবিষ্কারকও বটে।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।