নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
17 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)

বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মূল্যায়ন

বিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে যেভাবে মূল্যায়ন করেন, সাধারণ মানুষ সেভাবে করেন না। আমরা দু’রকমই আলোচনা করবো। প্রথমে বিজ্ঞানীর দিক থেকে বিচার করা যাক।

১.৭.১ এর শেষের দিকে বিজ্ঞানীদের কাছে বৈজ্ঞানিক জার্ণালে প্রকাশিত নিবন্ধের মূল্যায়িত হওয়ার কথা বলেছিলাম। যে প্রক্রিয়ার এটা ঘটে তাকে বলে সাইটেশন (citation)। প্রতিটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ভিত্তিতে থাকে আগে প্রকাশিত কোনো না কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। যেমন: নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব গড়ে উঠেছে কেপলারের তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে, আবার কেপলারের তত্ত্বের পেছনে আছে টাইকো ব্রাহের পর্যবেক্ষণ। সুতরাং বলা যায়, নিউটন কেপলারের সাইটেশন ব্যবহার করেছেন আর কেপলার ব্যবহার করেছেন টাইকো ব্রাহের সাইটেশন। এভাবে কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যত বেশি সাইটেশনে ব্যবহৃত হয় সেই তত্ত্বটির মূল্যায়নও তত উঁচু। কারণ সেটা তত বেশি কাজের। শুধু সাইটেশন থাকলেই হবে না, সেটা যথার্থ হওয়া চাই। অনেক শিক্ষার্থীই বাংলা রচনা লেখার সময় বানিয়ে বানিয়ে উদ্ধৃতি দেয় এবং সবসময় যে পরীক্ষকের নজরে সেটা ধরা পড়ে, তা নয়। আমার এক বন্ধু কলেজে পড়ার সময় ‘আমরা ধূমপান নিবারণ করি’ রচনায় লিখেছিল, “মহামতি বিজ্ঞানী বেনসন এন্ড হেজেস বলেছেন, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর”! এখন কেউ যদি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে এরকম সাইটেশন দেয় তখন? প্রায় সবসময়ই এরকম সাইটেশন রেফারির চোখে ধরা পড়ে যায়। বাংলা রচনার খাতা দেখেন একজন পরীক্ষক মাত্র আর একটা নিবন্ধ পিয়ার-রিভিউ করেন অনেক জন রেফারি। কারো না কারো চোখে এটা ধরা না পড়ে যায় না। আর ধরা যদি নেহায়েত না-ই পড়ে এবং নিবন্ধটি ওভাবেই জার্ণালে প্রকাশিত হয়ে যায় তখন পৃথিবীর কোনো বিজ্ঞানীর সেটা চোখে পড়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারপর সেই জার্ণালের চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার হতে বেশি সময় লাগার কথা নয় [১.৭.২ দ্রষ্টব্য]। নকল করা বা চুরি করা লেখার ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য।

এবারে দেখা যাক, সাধারণ মানুষের চোখে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মূল্যায়ন কীভাবে হয়। প্রথমেই একটা কথা বলে রাখা দরকার, সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের মধ্যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সম্পর্কে ভূল ধারণা প্রচলিত আছে। বইপত্রে ছাপানো বিজ্ঞান বিষয়ক কথা মানেই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়। টিভি চ্যানেলে প্রচারিত বা সিডি ডিভিডিতে প্রকাশিত বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্যচিত্র বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীও বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের পর্যায়ে পড়ে না। ইন্টারনেটে প্রচারিত বিজ্ঞান সংক্রান্ত বক্তব্যও বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হবে এমন কোনো কথা নেই। এমনকি বিজ্ঞানী যা বলেন তাও সবসময় বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়। বিজ্ঞান বিষয়ক এসব প্রকাশনা ও প্রচারণাকে বড়জোর ‘জনপ্রিয় বিজ্ঞান’ বলা যেতে পারে। উল্লিখিত উৎসগুলোকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব জানার কাজে তখনই বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যবহার করা উচিত, যখন সেখানে তথ্যসূত্র (reference) উল্লেখ থাকবে এবং সেই তথ্যসূত্র যাচাই করে তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যেমন: উইকিপিডিয়াতে বিভিন্ন প্রবন্ধের মাঝে দেখা যায় [citation needed] কথাটি লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ঐ অংশটি যে পিয়ার-রিভিউ করা জার্ণাল থেকে উদ্ধৃত বা যে প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার থেকে নেওয়া সেটা উল্লেখ করা নেই, তাই আলোচ্য অংশের বিশ্বাসযোগ্যতা কম। তথ্যসূত্রটি পূর্ণাঙ্গ হওয়া চাই। এই কথাটা অমুক জার্ণালে আছে বা অমুক বইতে পাওয়া যাবে - এটুকু যথেষ্ট নয়। বরং অমুক জার্ণালের অতো সংখ্যার অমুক পৃষ্ঠায় আছে কিংবা অমুক বইয়ের অতো সংস্করণের অমুক পৃষ্ঠায় আছে আর ঐ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত তথ্যটি তমুক জার্ণালের অতো সংখ্যার অমুক পৃষ্ঠায় আছে - এমনটা থাকা চাই।

যিনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ নন তিনি সে বিষয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে এমন বিপত্তি বাধান যে তা আর বলার নয়। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব পড়ে দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সারের মনে হলো, হুমম, বুঝলুম! সমাজে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ব্যাপারটা তো ঠিকই আছে, এটাই তো হওয়া উচিত কারণ এটাই প্রকৃতির নিয়ম!!! ডারউইন নয়, তিনিই প্রথম বলেন, সার্ভাইভ্যাল অব দ্যা ফিটেস্ট বা যোগ্যতমের বিজয়। এখান থেকে জন্ম নিল নতুন এক মতবাদ - সামাজিক ডারউইনবাদ। হার্বার্ট সাহেব জৈবিক ও সামাজিক নিয়মের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। এতে বিজ্ঞানীরা একটু মুচকি হেসেছেন, ব্যস। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁর কথা শুনে ধারণা করলো, তাহলে তো ডারউইনবাদ বড় খারাপ জিনিস। সেই ভ্রান্ত ধারণা জনসাধারণের মধ্যে এখনো বলবত আছে। তাই কে কোন বিষয় মূল্যায়ন করবেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

ক্রিয়েশন সায়েন্টিস্ট নামধারী মূর্খরা আসল বিজ্ঞানীদের কাছে কৌতুকের পাত্র হলেও তারা বিজ্ঞানীর মুখোশ পরে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে যথেষ্ট সফল। কারণ সাধারণ মানুষ, এমনকি যাঁরা শিক্ষিত, তাঁরাও অনেকে বিজ্ঞানের ফ্লেভার দেওয়া রঙচঙা গাঁজাখুরি বক্তব্যকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বলে ভূল করেন। কিন্তু চকচক করলেই তো আর সোনা হয় না। বিজ্ঞানী বা বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণী মানুষের কোনো বক্তব্যও বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া ঠিক নয়। উপযুক্ত তথ্যসূত্র ছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ক যত বুলিই আওড়ানো হোক না কেন, তার কোনো দাম নেই। বক্তা গুপী গাইনই হোক কিংবা আইনস্টাইন - কথা একই। আমার এই লেখায় সেরকম কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করিনি। তাই তুমি যদি আমার কথা মানতে না চাও তবে যৌক্তিকভাবে তুমি ভূল নও। কিংবা চাইলে কথাগুলোকে একটু কষ্ট করে সাইটেশন খুঁজে নিজ দ্বায়িত্বে যাচাই করেও দেখতে পারো। তোমার ব্যাপার!

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।