নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
3 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

কোন প্রকল্প তত্ত্বের মর্যাদা পাবে আর কোনটা ডাস্টবিনে যাবে সেটা বোঝার উপায় হলো প্রকল্প যাচাই করা। মজার ব্যাপার হলো, প্রকল্পকে কখনোই সরাসরি যাচাই করা যায় না। অমুক প্রকল্প সত্যি হলে তমুক ঘটনা ঘটবে আর তমুকটা ঘটতে পারে না - এমনধারা ব্যাপারগুলো দেখেশুনে পরোক্ষভাবে প্রকল্প যাচাই করা ছাড়া উপায় নেই। যেমন: আমার পি.সি.র ‘পি.এস.টু কীবোর্ডের জন্য সমস্যাটা হচ্ছে’ প্রকল্পটি যদি সত্যি হয় তাহলে পি.এস.টু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সমস্যা দূর হওয়ার কথা। হয়েছেও তাই। পি.এস.টু.র বিকল্প ইউ.এস.বি ব্যবহারে সমস্যাটা ফিরে আসেনি - সেটাও এই প্রকল্পের পক্ষে যায়। যদি এগুলোর কোনো একটা ফল অন্যরকম পাওয়া যেতো তাহলে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যেতো। প্রকল্প বা তত্ত্বকে পরখ করার জন্য তার যেসব ফলকে ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে বলে পূর্বাভাস (prediction)। যেমন: আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে বলে forecast এবং এটা প্রায়ই মেলে না বলে অভিযোগ আছে। আমরা এ থেকে বলতে পারি, আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোকে যথেষ্ট নিখুঁত করাটা এখনো বিজ্ঞানীদের কাজের তালিকায় pending আছে!

বেকনই প্রথম বলেছেন, প্রকল্পকে যাচাই না করে তাকে তত্ত্বে উন্নীত করা চলবে না। তবে তিনি ভাবতেন সব প্রকল্পকেই যাচাই করা সম্ভব। আরেক দার্শনিক কার্ল পপার বললেন, ‘না’। সব প্রকল্প যাচাইযোগ্য নয়। আমি যদি আমার পি.সি সম্পর্কে এই প্রকল্প নিতাম - ‘পি.এস.টু কীবোর্ড মাদারবোর্ডের সাথে প্রসেসরের সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় লজিক সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে’, তাহলে তার পূর্বাভাস হতো এমন - ‘লজিক সার্কিটের বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপলে অস্বাভাবিকত্ব পাওয়া যাবে’। এই পূর্বাভাস যাচাই করার মতো প্রযুক্তি বা সুযোগ আমার নেই। তাই প্রকল্পটিও আমার পক্ষে যাচাইযোগ্য নয়। ঠিক একই কারণে এতোদিন স্ট্রিং থিওরি যাচাই করা যাচ্ছিল না। এখন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে CERN এর LHC তে সেটা যাচাই করা যাচ্ছে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের একটি পূর্বাভাস - ‘মহাকর্ষের প্রভাবে আলোর বেঁকে যাওয়া’ যাচাই করা সম্ভব হয়েছিল তত্ত্বটি প্রকাশিত হওয়ার বহু পরে, একটি সূর্যগ্রহণ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। একইভাবে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের অনেক পূর্বাভাস এখন যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। অবশ্য, আইনস্টাইনের তত্ত্বের সাথে মিল রেখে আলো যদি না বাঁকাতো তবে আইনস্টাইনের তত্ত্বের যতই গাণিতিক বাহাদুরি থাকুক আর আইনস্টাইন যতোই বড় বিজ্ঞানী হোন, তাঁর তত্ত্ব ডাস্টবিনে চলে যেত। একইভাবে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের একটা পূর্বাভাসও যদি কোনোদিন না মেলে তাহলে ঐ তত্ত্বটিরও একই গতি হবে। তবে প্রাকৃতিক নির্বাচন এমনই শক্তিশালী তত্ত্ব যে, যতোই প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে, তার সপক্ষে প্রমাণ বাড়ছে বৈ কমছে না।

এতোক্ষণ প্রকল্প যাচাই করার যেসব সীমাবদ্ধতার কথা বলা হলো সেগুলো আপেক্ষিক, কারণ প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সেসব সীমাবদ্ধতা আর থাকে না। কিন্তু পপার এমন কিছু প্রকল্প উল্লেখ করেছেন যেগুলো কোনো অবস্থাতেই যাচাই করা যাবে না। যেমন: ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে যখন কেউ বা কোনো যন্ত্র পর্যবেক্ষণ করে না, তখন মহাকর্ষকে অমান্য করে আমি শূন্যে ভেসে যাই এবং জেগে ওঠার আগেই আস্তে করে বিছানায় ফেরত আসি। যেহেতু এধরণের প্রকল্প যাচাই করার কোনো রাস্তা খোলা নেই, তাই এগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো সময়ের অপচয় মাত্র। এরকম প্রকল্পের অস্তিত্ব থাকা এবং না থাকা একই কথা, তাই আমরা এটা ধরে নিলে কোনো দোষ নেই যে এরকম প্রকল্প থাকতে পারে না। কেননা, যদি এসব আজগুবি জিনিসকে সত্য বলে মেনে নিতে হয়, যেগুলো যাচাইযোগ্য নয়, তাহলে জ্ঞানের রাজ্যে এতোসব জঞ্জাল জমবে যে জ্ঞানচর্চাই আর করা সম্ভব হবে না। ইউরোপে মধ্যযুগে ঠিক এই ব্যাপারটাই ঘটেছিল। এজন্য তার আরেক নাম ‘অন্ধকার যুগ’। যাহোক, কোনো প্রকল্পের যাচাইযোগ্যতাকে পপার falsifiability বলে অভিহিত করেছেন। কোনোকিছুকে মিথ্যা (false) প্রতিপন্ন করার সুযোগ থাকাটাই তার যাচাইযোগ্যতা, সেজন্যেই এমন নামকরণ। তার মানে এই নয় যে জিনিসটা মিথ্যা হতে হবে। যেমন: আমার পি.সি সংক্রান্ত প্রতিটা প্রকল্পই যাচাইযোগ্য এবং শেষ প্রকল্পটি সত্যি। এরিস্টটল বলেছিলেন, ভারী জিনিস হালকা জিনিসের চেয়ে দ্রুত মাটিতে পড়ে। কথাটা মিথ্যা, তবে যাচাইযোগ্য। কারণ দুটো ভিন্ন ভরের জিনিস ফেলে দেখলেই ল্যাঠা চুকে যায়। গ্যালিলিও একাজটাই করেছিলেন।

ইতিপূর্বে [১.৪.২ দ্রষ্টব্য] বিজ্ঞানীর বেশকিছু গুণের ফর্দ ফেঁদেছি। তবে বিজ্ঞানীর সবচেয়ে বড় গুণটি হলো, প্রকল্প যাচাই করতে গিয়ে যদি দেখা যায় বিজ্ঞানী যা আশা করেছেন ফলটা তেমন হলো না, তবে মনটা খারাপ হলেও তা মানতে পিছপা না হওয়া। এর নাম নৈর্ব্যক্তিকতা (objectivity)। যা প্রমাণ করার আশায় বিজ্ঞানী নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কতশত ঘুমহীন রাত কাটিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বছরের পর বছর কাজ করেন সেটা যদি শেষে ভূল প্রমাণিত হয় তাহলে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে মন খারাপ করার অধিকার বিজ্ঞানীর আছে। তিনি তো আর যন্ত্র নন। এমন আবেগের বশে গবেষণার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়াটা নৈর্ব্যক্তিকতার পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। ক্ষতিকারক এবং অবৈজ্ঞানিক হলো সেটাই যখন বিজ্ঞানী আবেগের বশে গবেষণার জলজ্যান্ত ফলকে অস্বীকার করেন। আইনস্টাইন শেষ জীবনে এমনটাই করেছেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘ঈশ্বর পাশা খেলেন না’ এমনই সাক্ষ্য দেয়। কোথায় যেন পড়েছিলাম, তিনিই প্রকৃত বিজ্ঞানী যিনি আজীবন চেষ্টা করেন তাঁর সারা জীবনের সাধনাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে।

আচ্ছা, এখন ধরা যাক, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রকল্প গঠন ও যাচাই ইত্যাদি বহু ঝামেলা শেষ করে শেষমেষ একটা তত্ত্ব খাড়া করলাম। তত্ত্বটা কী? ‘আমার পি.সি.র সমস্যাটা কীবোর্ডের পি.এস.টু সংযোগের সমস্যার জন্য হচ্ছে।’ তত্ত্বটা ঠিক আছে কিনা তা কী করে বুঝবো? আরে! তত্ত্ব যদি ঠিক না থাকে তাহলে এতোক্ষণ ধরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কী ঘোড়ার ঘাস কাটলাম? তত্ত্ব ঠিক হতেই হবে! না। তারপরেও তত্ত্ব ঠিক আছে কিনা সেটা বুঝতে একটা শেষ পরীক্ষা দিতে হবে - 3C পরীক্ষা।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।