নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
3 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

বেকনীয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা

আমার পি.সি.র সমস্যা ঠিক করার ব্যাপারে কি আমি পুরোপুরি বেকনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করেছি? না। বেকন সাহেব ভাবতেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীর ভূমিকা বুঝি নিতান্তই পরোক্ষ এবং যান্ত্রিক। বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছে? আচ্ছা, খোলসা করে বলছি। বেকন সাহেবের মতে পর্যবেক্ষণ করার সময় বিজ্ঞানী কেবল তথ্য সংগ্রহই করবেন। কোন তথ্য রাখবেন আর কোনটা বাদ দেবেন সেটা পরের কথা, আগে তথ্যসংগ্রহ, সেখানে তথ্যের কোনো বাছ-বিচার চলবে না। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমি শুধু সেইসব তথ্যই সংগ্রহ করেছি যেগুলো আমার জন্য দরকারী মনে হয়েছে। হলের বাকিদের পি.সি. তে একই সমস্যা হয়েছে কিনা তা খুঁজতে গিয়ে প্রত্যেকের পি.সি.র মডেল, ব্র্যান্ড, কোন দোকান থেকে কেনা, কতদিন আগে কেনা - সেসব ফর্দ করতে বসিনি। বেকন সাহেব থাকলে বলতেন, আমার এমনটা করা উচিত ছিল কারণ ভোল্টেজের প্রভাব যে এসব কিছুর ওপরে নির্ভর করে না, তথ্য সংগ্রহ করার সময় তা আমি জানলাম কীভাবে? হ্যাঁ, বেকন সাহেবের কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু তাহলে আমার প্রতিটা প্রকল্পের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতেই বুড়ো হয়ে যেতাম! এবং শেষমেষ এতো তথ্যের জঞ্জাল থেকে দরকারী তথ্য বের করাই মুশকিল হতো। একই কারণে, হল এবং সার্ভিস সেন্টারের হাজার হাজার পার্থক্য থেকে মাত্র দুটোকে বেছে নিয়েছিলাম প্রকল্প গঠনের জন্য - ভোল্টেজ এবং কীবোর্ড সংযোগ। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম ধাপ, অর্থাৎ, পর্যবেক্ষণ ধাপে তথ্য সংগ্রহ করার সময় থেকেই বিজ্ঞানী নিজের অভিজ্ঞতা ও কমন-সেন্স কাজে লাগান। কেবল চোখ বুঁজে তথ্য সংগ্রহ করে বেড়ান না, যেমনটা বেকন বাবু বলেছেন।

ডারউইন নিজের সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমি বিশুদ্ধ বেকনীয় পদ্ধতিতে কাজ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’ একেবারে ভূল কথা। ডারউইনের সংগৃহীত অনেক তথ্য-উপাত্ত পরে অপ্রয়োজনীয় প্রমাণিত হয়েছে - একথা সত্যি। তবে তা বাদ দিলেও যে বিপুল পরিমাণ ‘প্রয়োজনীয়’ তথ্য তিনি জোগাড় করেছিলেন তা প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যথেষ্ট ছিল এবং তিনি যেসব তথ্যকে অপ্রয়োজনীয় বলছেন, সংগ্রহের সময় সেগুলোকে প্রয়োজনীয় মনে করেই সংগ্রহ করেছেন। এসব কথা তাঁর নিজের ডায়েরীতে তিনি নিজেই লিখেছেন। তবু কেন শেষতক তিনি নিজেকে ‘বিশুদ্ধ’ বেকনীয় বিজ্ঞানী হিসেবে ঘোষণা করলেন তা বোধগম্য নয়!

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, তথ্য সংগ্রহের সময় বাছ-বিচার করাটা বাস্তবে দরকারী, তাই বলে কেউ যেন মনে না করে, শুধু প্রকল্পের পক্ষের তথ্যগুলো নেবো আর বিপক্ষেরগুলো বাদ দেবো। তথ্যের বাছবিচার বলতে ওরকম বাছবিচার করা বোঝাচ্ছে না। বরং, এমন সব তথ্যই জোগাড় করার চেষ্টা করতে হবে যা প্রকল্পের পক্ষে বা বিপক্ষে যায়। বিপক্ষের তথ্যগুলোই যে বেশি দরকারী, তা আগের পরিচ্ছেদে [১.৪.১ দ্রষ্টব্য] আলোচনা করা হয়েছে। সেসব তথ্যগুলো বাদ দিতে হবে যা প্রকল্পের পক্ষেও নয় বিপক্ষেও নয়, অন্যভাবে বললে, যেসব তথ্যের উপর প্রকল্পটা নির্ভরশীল মনে হয় না। এখানেই বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শীতার প্রসঙ্গ আসে, বেকন যেগুলোকে পাত্তা দেননি। বেকনীয় পদ্ধতিতে কাজ করতে হলে বিজ্ঞানীকে যে অমানুষিক পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান হতে হবে তা হয়তো রক্ত-মাংসের মানুষের পক্ষে অসম্ভব, তবে এটা ঠিক, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম বিজ্ঞানীর দুটো বড় গুণ। বিজ্ঞানীর সবচেয়ে বড় গুণটি কী তা একটু পরে বলছি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন ছাত্র পাওয়া দুষ্কর যে এই কথাটা শোনেনি - What mind doesn’t know, eye doesn’t see। রোগী চিকিৎসকের কাছে অনেক রকম কথাই বলে তবে চিকিৎসকের কাজ হলো ঐ কথাগুলোর ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু বের করে আনা। বাকি তথ্য না শুনলেও ক্ষতি নেই। একাজে যে যত বেশি পারদর্শী, চিকিৎসক হিসেবে সে তত বেশি অভিজ্ঞ। অভিজ্ঞতাহীন পর্যবেক্ষণ বিফল পর্যবেক্ষণ। তাহলে অভিজ্ঞতা হবে কী করে? পর্যবেক্ষণ থেকে। পর্যবেক্ষণ করতে আবার অভিজ্ঞতা দরকার। প্যাঁচ লাগছে? আসলে, দুয়ের মধ্যে সম্পর্কটা দ্বান্দ্বিক [১.২.১ দ্রষ্টব্য]। দেখা বলতে এখানে শুধু চোখের দেখা নয়, বরং পাঁচ ইন্দ্রিয়ের যেকোনোটা দিয়ে পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করাকে বোঝাচ্ছে।

শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই প্রকল্প গঠন করার পক্ষে যথেষ্ট নয়, সেগুলো বিশ্লেষণ করাটাও জরুরি। আমার পি.সি রুমে একরকম আর সার্ভিস সেন্টারে অন্যরকম আচরণ করছিল। এই তথ্য থেকে যদি আমি ভাবতাম পি.সি. টাকে বুঝি ভূতে ধরেছে তাহলে কেমন হতো? মানসিক অনেক অসুখের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ কিন্তু এখনো এমনটাই মনে করে। তাদের ভূলটা তথ্যের বিশ্লেষণে, কারণ এর ভেতরের ব্যাপারটা তারা জানে না। বেকনীয় পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীর কোনো ভূমিকা স্বীকার করা হয়নি। ভাবখানা এমন যে, একতাড়া তথ্য ধরিয়ে দিলে যেকোনো রাম-শ্যাম-যদু-মধু সেখান থেকে ঠিকঠাক প্রকল্প গঠন করতে পারবে। একই তথ্য যে একেক জনের কাছে একেক রকম অর্থ নিয়ে হাজির হয় সেটা বেকন সাহেবের নজরে আসেনি। তাই বলে আবার এটা মনে করা ঠিক নয় যে, তথ্যের যেহেতু নানারকম মানে হয় সেহেতু তথ্যের কোনো দাম নেই। তাহলে কিন্তু এরিস্টটলীয় প্যাঁচে পড়ে যাবে - ‘বিশুদ্ধ চিন্তা থেকেই বিশুদ্ধ তত্ত্ব নির্মান করা যায়’। সুতরাং সাধু সাবধান! তথ্যের দাম ঠিক করার উপায় হলো তার প্রয়োগ দেখা। সেজন্য চাই অভিজ্ঞতা। তাই কোনো তথ্যের মানে বুঝতে তালগোল পাকিয়ে ফেলার অর্থ সবসময় এই নয় যে তথ্যটাই গোলমেলে।

তাহলে মোটের উপর দাঁড়ালো এই যে, বেকনীয় পদ্ধতি (পর্যবেক্ষণ-->প্রকল্প-->তত্ত্ব) কে পরিমার্জন ও সংশোধন করে আমরা পেলাম:

সুচিন্তিত পর্যবেক্ষণ-->উপাত্ত বিশ্লেষণ-->প্রকল্প-->তত্ত্ব

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।