নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
3 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

জীববিজ্ঞানের গণ্ডি কতখানি?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আগে জানা দরকার, জীব কী। কাদেরকে জীব বলা যাবে আর কাদেরকে বলা যাবে না, সেটার যে কঠোর সীমারেখা নেই তা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। তাই আমরা জীবের কোনো বাঁধাধরা সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করছি না, বরং সকল জীবের কয়েকটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করছি এবং ঐ বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ, বিপরীত-উদাহরণ ও জড়ের উদাহরণ সাথে সাথে দিয়ে দিচ্ছি।

১) জীবের শরীরের অভ্যন্তরীণ রাশিগুলোর মান সবসময় একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।

উদাহরণ: মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 97°F–99°F এর মধ্যে থাকে।

বিপরীত-উদাহরণ: অনেক অসুখ-বিসুখে তাপমাত্রা এই সীমার বাইরে চলে যায়।

জড়ের উদাহরণ: এয়ার কুলার, থার্মোস্ট্যাট ইত্যাদি।

২) জীব বংশবৃদ্ধি করে, অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে।

উদাহরণ: দেওয়ার দরকার আছে?

বিপরীত-উদাহরণ: অনেক সংকর জীব (যেমন: গাধা + ঘোড়া = খচ্চর) বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। তাছাড়া, অনেক রোগে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।

জড়ের উদাহরণ: কম্পিউটার ভাইরাস (সে আর বলতে!)

৩) জীব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, এই বৃদ্ধি কেবল বস্তুর সঞ্চয় নয়, যেমনটা পলি পড়ে ব-দ্বীপ গঠনের বেলায় হয়, বরং নির্দিষ্ট প্যাটার্ণ বজায় রেখে বেড়ে ওঠাকে বোঝায়।

উদাহরণ: শিশু জীব বড় হলে তার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকৃতি মোটের উপর সদৃশই থাকে, কেবল আকারে বাড়ে। (জ্যামিতির ভাষায় একে homothety বলা যায়)

বিপরীত-উদাহরণ: ভাইরাস বড়ও হয় না, আকারেও বাড়ে না (শুধু বংশবৃদ্ধি করে)

জড়ের উদাহরণ: স্ফটিক বা কেলাস।

৪) জীব উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।

উদাহরণ: নিজের গায়ে একটা চিমটি কেটে দেখো!

বিপরীত-উদাহরণ: অজ্ঞান অবস্থা।

জড়ের উদাহরণ: ফটো-ইলেক্ট্রিক সেল, মোশন সেন্সর ইত্যাদি।

... এরকম ভুরি ভুরি বৈশিষ্ট্য হাজির করা যাবে, কিন্তু সেগুলোর উদাহরণের পাশাপাশি বিপরীত-উদাহরণ ও জড়ের উদাহরণও থাকবে। অবধারিতভাবে থাকবে। তাই কোনো একটা বৈশিষ্ট্য দিয়ে জীবকে বাঁধা যাবে না। আবার অনেক-অনেক সাধারণ বৈশিষ্ট্যের নিরীখে জীবকে বিচার করতে গেলে তা জীববিজ্ঞানকে অহেতুক সীমাবদ্ধ করে দেবে। সব দিক দেখেশুনে আধুনিক জীববিজ্ঞানে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যকে সকল জীবের সাধারণ মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়েছে। এগুলোকে বলে ‘জীববিজ্ঞানের মৌলিক স্বীকার্য’।

১) কোষতাত্ত্বিক স্বীকার্য: কোষ হলো জীবনের মৌলিক একক। (মনে রেখো, ভাইরাস অকোষীয় জীব হলেও তার জৈবনিক কার্যকলাপ তথা জীবনের বহিঃপ্রকাশ, জীবন্ত কোষের সংস্পর্শ ছাড়া সম্ভব নয়)

২) বিবর্তনী স্বীকার্য: প্রতিটি প্রজাতি ও বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যাবলী বিবর্তনের ফসল। (আমাদের জানামতে এর একমাত্র ব্যতিক্রম হলো ক্রেইগ ভেন্টারের ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম ব্যক্টেরিয়া প্রজাতি - Mycoplasma laboratorium; তাই হয়তো এখন থেকে এই স্বীকার্যে ‘প্রতিটি প্রজাতি’ কথাটার জায়গায় ‘প্রতিটি প্রাকৃতিক প্রজাতি’ বলতে হবে)

৩) জীনতাত্ত্বিক স্বীকার্য: জীন হলো বংশানুক্রমের মৌলিক একক।

৪) সুস্থিতি স্বীকার্য: জীবের শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি রাশির মান ততক্ষণই একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে, যতক্ষণ সেই রাশির পরিবর্তনের জন্য দায়ী নিয়ামকগুলোর মান একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।

৫) শক্তিসঞ্চারণী স্বীকার্য: জীব প্রতিনিয়ত পরিবেশ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে, সংগৃহীত শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত করে, কখনওবা সঞ্চয় করে এবং শেষতক সেই শক্তি আবার পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়।

যদিও এদেরকে ’স্বীকার্য’ নামে ডাকা হচ্ছে, তবু গণিতের স্বীকার্যের সাথে এদের তফাত আছে। জীববিজ্ঞানের স্বীকার্য আর গণিতের স্বীকার্যকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। তার আগে বলোতো, স্বীকার্য কী? সাধারণত বলা হয়ে থাকে, স্বীকার্য হলো এমন কথা যেটাকে প্রমাণ ছাড়াই সত্যি ধরে নিয়ে সেখান থেকে বাকি কথাগুলো প্রমাণ করা হয়। এটা কিন্তু একটা মারাত্মক ভুল ধারণা, এটা জীববিজ্ঞান বা গণিত বা কোনো বিজ্ঞান মতেই ঠিক নয়। বিজ্ঞানে ’প্রমাণ ছাড়া’ গাছের পাতাটাও নড়ে না! স্বীকার্যেরও প্রমাণ আছে। যেমন ধরো, ইউক্লিডের স্বীকার্যগুলো পর্যবেক্ষণ থেকে আরোহ পদ্ধতিতে প্রমাণ করা যায় আর ইউক্লিডীয় জ্যামিতির প্রতীজ্ঞাগুলো (অর্থাৎ উপপাদ্য ও সম্পাদ্য), সেই স্বীকার্যগুলো ব্যবহার করে অবরোহ পদ্ধতিতে প্রমাণ করা চলে। আবার, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা নীতির মূল স্বীকার্য দুটি (সব জড় কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের যাবতীয় নীতির সাম্য এবং আলোর বেগের পর্যবেক্ষক-নিরপেক্ষ মান) ইউক্লিডের স্বীকার্যগুলোর মতোই পর্যবেক্ষণ থেকে আরোহ পদ্ধতিতে প্রমাণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তত্ত্বের বাকিটা অবরোহ পদ্ধতিতে প্রমাণ করা গেছে। তেমনিভাবে আমরা আশা করতে পারি, জীববিজ্ঞানেও ঐ পাঁচটা স্বীকার্য আরোহ পদ্ধতিতে প্রমাণ করে সেখান থেকে জীববিজ্ঞানের আর যা কিছু আছে তা স্রেফ অবরোহ দিয়ে প্রতিপাদন করা যাবে। তবে প্রকৃত চিত্রটি এমন নয়। এখনও আমরা জীববিজ্ঞানের অনেক তত্ত্বকে সেই পর্যায়ে উন্নীত করতে পারিনি। এখানে স্বীকার্যগুলো বর্তমানে আমাদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। বিজ্ঞানে যদিও ‘তাত্ত্বিক পূর্ণতা’ বলতে কিছু নেই, তবু জীববিজ্ঞানে কোনো তত্ত্বকে যখন কেবলমাত্র ঐ পাঁচটা স্বীকার্য হতে প্রতিপাদন করা যায় তখন সেই তত্ত্বের বেলায় আমাদের অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে আমরা মনে করতে পারি। কেননা, এখন পর্যন্ত ঐ পাঁচটা স্বীকার্যের কোনোটার বিরুদ্ধে সামান্যতম তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, বরং সব উপাত্ত ওগুলোর পক্ষেই কথা বলে। অবশ্য, আপেক্ষিকতার মৌলিক স্বীকার্যদুটির কোনোটাকে যদি মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যায় তাহলে যেমন সমস্ত আপেক্ষিক তত্ত্বই ভেঙে পড়বে, তেমনি জীববিজ্ঞানের স্বীকার্যগুলোর কোনোটা ভুল হলে পুরো জীববিজ্ঞানকেই আবার ঢেলে সাজাতে হবে।

পুনশ্চ...

আরোহ এবং অবরোহ নিয়ে উপরে রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে দিয়েছি। তারই কৈফিয়ৎ হিসেবে ‘অফটপিক’ হলেও ওদুটো ব্যাপারে দু-চার কথা না বললেই নয়। ইউক্লিডের প্রথম স্বীকার্য, দুটি বিন্দু দিয়ে কেবল একটাই সরলরেখা আঁকা যায়, সেটা প্রমাণ করতে হলে আমাদের যেভাবে আরোহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা লাগবে সেটা বলছি। সমতলে অনেকগুলো বিন্দু নিই। দেখা যাবে, প্রতিজোড়া বিন্দুর জন্য একটার বেশি সরলরেখা আঁকা যাচ্ছে না। যত বেশি সংখ্যক বিন্দু নিয়ে পরীক্ষাটি করা হবে, প্রমাণটি তত পাকাপোক্ত হবে। আর ঐ স্বীকার্যটি যখন কোনো উপপাদ্য প্রমাণের যৌক্তিক ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে তখন সেটা অবরোহ। অবরোহ পদ্ধতিতে বারবার পর্যবেক্ষণের কোনো ব্যাপার নেই। যুক্তির এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে যাওয়ার মধ্যে যদি কোনো ভুজুং-ভাজুং না থাকে তাহলে অবরোহ পদ্ধতির প্রমাণ শতভাগ সঠিক। অবশ্য ‘আরোহ’ আর ‘গাণিতিক আরোহ’ - এদুটোকে গুলিয়ে ফেলোনা যেন! একটু আগে ইউক্লিডের প্রথম স্বীকার্য প্রমাণে যে আরোহ ব্যবহার করলাম সেটা গাণিতিক আরোহ নয়, শুধু আরোহ। গাণিতিক আরোহ, নামে আরোহ হলেও আসলে একধরণের অবরোহ এবং নামে গাণিতিক হলেও গণিতে আরোহ মানেই সবসময় গাণিতিক আরোহ নয় - তবে বাইরে থেকে দেখতে আরোহের মতো লাগে বলে এমন নামকরণ। কিন্তু চকচক করলেই তো আর সোনা হয় না! এটাকে ব্যাখ্যা করতে গেলে জীববিজ্ঞানের আলোচনা শিকেয় তুলে রাখতে হবে, তাই সেটা মুলতবি রাখছি। যাহোক, গণিত ও অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো জীববিজ্ঞানেও আরোহ বলতে বারবার পর্যবেক্ষণলব্ধ ফল হতে সরাসরি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াকে বোঝায়। স্বীকার্যগুলো এভাবেই প্রমাণ করা হয়েছে। আর সেই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে শুধুই যৌক্তিক প্রতিপাদনের মাধ্যমে, অনেকটা জ্যামিতির উপপাদ্য প্রমাণের মতো করে, সিদ্ধান্তে আসার নাম অবরোহ।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।