নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
2 like 0 dislike
7 views
asked in বিজ্ঞান by (1,626 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

0 like 0 dislike
answered by (1,626 points)
 
Best answer

জীববিজ্ঞান পড়ার সময় কোন ব্যাপারগুলো সবসময় মাথায় রাখতে হবে?

তিনটি ব্যাপার -

১)    বৈপরিত্যের সহাবস্থান

২)    পরিমাণবাচকতা থেকে গুণবাচকতায় উত্তরণ

৩)    সর্পিল অগ্রগতি

খটমটে নাম দেখে ঘাবড়াবার কিছু নেই। আমি জীববিজ্ঞান আলোচনার ভেতরেই আছি, সংস্কৃত ব্যাকরণে চলে যাইনি। তাই নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।ঐ বিদঘুটে জিনিসগুলোর মানে কি তা বলার আগে একটা কথা বলে রাখা জরুরী, শুধু জীববিজ্ঞানে নয়, উল্লিখিত তিনটি ব্যাপার কিন্তু জ্ঞানচর্চার সবেক্ষেত্রেই বেশ কাজে দেয়। তবে আমাদের আলোচনা কেবল জীববিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ওগুলোর কি ব্যবহার, তার মধ্যেই যথাসম্ভব সীমাবদ্ধ থাকবে।

বৈপরিত্যের সহাবস্থান

সূর্য কি করে স্থিতাবস্থায় থাকে? সূর্যের নিজের ভর তাকে মহাকর্ষের প্রভাবে কেন্দ্রের দিকে চুপসে ফেলতে চায়। আবার হাইড্রোজেন থেকে ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়াম উৎপন্ন করে যে তাপ পাওয়া যায় তার থেকে পাওয়া গতিশক্তি, অনুগুলোকে বাইরের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সূর্যটাকে ফুলিয়ে দিতে চায়। মহাকর্ষীয় সংকোচন বনাম গ্যাসের তাপীয় প্রসারণ। এদুটি বিপরীত জিনিস যতক্ষণ সমানে সমানে থাকে ততক্ষণ সূর্য যেমনটি আছে ঠিক তেমটিই থাকে। চুপসেও যায় না, ফেঁপেও যায় না। যেকোনো নক্ষত্রের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি সত্যি। ঐদুটোর যেকোনো একটা যদি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তবেই নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়। সাধারণত ফিউশন জ্বালানী শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাপ কমে গিয়ে প্রসারণ বলটা দূর্বল হয়ে পড়ে আর মহাকর্ষের প্রভাবে তখন নক্ষত্র চুপসে যায়। তবে একবারেই চুপসে বিন্দুবৎ নাও হতে পারে। মহাকর্ষের প্রভাবে নিউকিয়াসগুলো কাছাকাছি এসে সংঘর্ষের ফলে হিলিয়ামের চেয়ে ভারী মৌলগুলো ফিউশনের মাধ্যমে তৈরি হতে থাকে এবং তা থেকে একটু কম হলেও তাপ তথা প্রসারণবল পাওয়া যায়। নক্ষত্র যখন আরো আরো বেশি চুপসে যায় তখন প্রসারণ বল আসে ‘পলির বর্জন নীতি’ থেকে। সেই প্রসারণটুকুও যখন আর যথেষ্ট থাকে না তখন মহাকর্ষই সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে - গঠিত হয় কৃষ্ণগহ্বর। তবে হ্যাঁ, কৃষ্ণগহ্বরেও এমন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে যা প্রতিমুহূর্তে কিছু কণা বাইরে ছুঁড়ে দিচ্ছে, যাকে ‘প্রসারণের অপচেষ্টা’ বললে ভূল হবে না। এর নাম ‘হকিং বিকিরণ’, যা অনিশ্চয়তা নীতির ফলে ঘটে থাকে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, নক্ষত্রের জীবনকালের প্রতিটি ধাপে দুই বিপরীত - সংকোচন ও প্রসারণ, ক্রিয়াশীল থাকে। নক্ষত্রের অস্তিত্বের জন্য এ দুয়ের সহাবস্থান আবশ্যক। সাম্যাবস্থার পরিবর্তন হয় হোক, তবু সংকোচন ও প্রসারণ একই সাথে থাকা চাই। এথেকে আরো একটা নীতির কথা মনে পড়ে গেল - লা শাতেলিয়ে নীতি। কোনো বিক্রিয়ার নিয়ামক পরিবর্তন করলে বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থান এমনভাবে পাল্টায় যাতে নিয়ামক পরিবর্তনের ফল প্রশমিত হয়। এমনটা ঘটতে পারে একই সাথে একজোড়া বিপরীতমুখী বিক্রিয়া, যাকে আমরা উভমুখী বিক্রিয়া বলি, সেটা হয় বলে। ঠিক তেমনিভাবে প্রাকৃতিক অন্য সব ঘটনার মতো যেকোনো জৈবনিক প্রক্রিয়াতেও বৈপরিত্যের সহাবস্থান একটি আবশ্যক শর্ত। পদার্থবিজ্ঞান পড়ার সময় সেটা সচেতনভাবে খেয়াল না রাখলেও চলে, তবে জীববিজ্ঞানে এটা অবশ্যই অবশ্যই সবসময় মনে রাখা চাই। যেমন: ক্ষয় ও বৃদ্ধি - এদুটি বিপরীত প্রক্রিয়া জীবদেহে সহাবস্থান করে বলেই জীবদেহ টিকে থাকতে পারে। শিশুকালে সাম্যাবস্থাটা বৃদ্ধির দিকে থাকে, মাঝবয়সে সেটা ঠিক ক্ষয়-বৃদ্ধির মাঝামাঝি আর বুড়ো হলে ক্ষয়ের দিকে থাকে। কিন্তু শরীরের কোথাও যদি ক্ষয় এর হার শূন্য হয়ে যায় তবে কেমন হবে বলোতো? তখন সেখানে লাগাম-ছাড়া বৃদ্ধি হবে, যার নাম টিউমার। আর যদি বৃদ্ধির হার শূন্য হয় তবে তা ক্ষয়ের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাবে। এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল করো ক্ষয় লোপ পেলেই বৃদ্ধির বাড়বাড়ন্ত আর বৃদ্ধি হারিয়ে গেলেই ক্ষয়ের দাপট। কোনো একটা অনুপস্থিত থাকলেই হলো, অন্যটাকে নেমন্তন্ন করে আনতে হবে না, সে নিজেই মাথাচাড়া দিয়ে নিজের অস্তিত্বের জানান দেবে। এদিক দিয়ে নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের থেকে বৈপরিত্যের সহাবস্থানের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। নিউটনের সূত্র মতে, প্রতিটি ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আর বৈপরিত্যের সহাবস্থান অনুসারে, ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া একই সাথে ক্রিয়াশীল থাকে। জীববিজ্ঞানে এই নীতিটা মনে রাখা জরুরী কেননা আমরা অনেকসময়ই বিভিন্ন সিস্টেমে ক্রিয়াশীল দুই বিপরীত প্রক্রিয়ার একটাকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারি, কিন্তু আরেকটার অস্তিত্ব বোঝার একমাত্র উপায় হলো ঐ পর্যবেক্ষিত প্রক্রিয়ার উল্টো প্রক্রিয়া অনুমান করা।

যদি বৈপরিত্যের সহাবস্থান ব্যাপারটা মাথায় না থাকে তবে সেই বিপরীত প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ বেশ ভূতুড়ে মনে হবে! এর একটা উদাহরণ হলো, স্বপ্ন দেখা। বৈপরিত্যের সহাবস্থান নীতিটা বুঝতে পারার আগে স্বপ্ন নিয়ে কতই না জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। ফ্রয়েড সাহেব তো রীতিমতো ‘খোয়াবনামা’ লিখে ফেলেছেন - কোন স্বপ্নের অর্থ কী তার বিস্তারিত বর্ণনা তাতে আছে। পরে রুশ বিজ্ঞানী পাভলভ যখন বৈপরিত্যের সহাবস্থানের ধারণা কাজে লাগিয়ে স্বপ্নের শারীরতত্ত্ব ব্যাখ্যা করলেন তখন বোঝা গেল এতোদিন স্বপ্ন নিয়ে যা কিছু ভাবা হয়েছে সবই অসার! পাভলভের গবেষণা অনুসারে, আমরা যখন জেগে থাকি তখন একই সাথে আমাদের মস্তিষ্কের সমস্ত কোষ জেগে থাকে না, কিছু কোষ ঘুমায়। আর আমরা যখন ঘুমাই তখন মস্তিষ্কের কিছু কোষ নাইটগার্ডের মতো জেগে বসে থাকে। সেগুলোর কার্যকলাপের প্রকাশই হলো স্বপ্ন দেখা। আধুনিক কালে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দেখার জন্য নিত্যনতুন প্রযুক্তির সহায়তায় পাভলভের ব্যাখ্যার যথার্থতার প্রমাণ মিলছে। পাভলভের সময় অবশ্য এসব প্রযুক্তি ছিল না, তিনি স্রেফ বাহ্যিক পর্যবেক্ষণ ও বৈপরিত্যের সহাবস্থানের ধারণা থেকে ঐ সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। বৈপরিত্যের সহাবস্থান ছাড়া এটা মনে হতে বাধ্য যে ঘুমালে মস্তিষ্কের সব কোষই ঘুমায় আর জেগে থাকলে সব কোষই জেগে থাকে। অবশ্য সব কোষ ঘুমালে যে শ্বাস-প্রশ্বাস সহ নানা জরুরী জীবনরক্ষাকারী কাজ চলতে পারে না সেটা পাভলভের আগের বিজ্ঞানীরা ঠিকই বুঝেছিলেন, তবে পাভলভের কৃতিত্ব হলো, যেসব কোষ ঐ জীবনরক্ষাকারী কাজগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, কেবল উচ্চতর সংবেদন ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করে, সেগুলোও সব ঘুমিয়ে যায় না সেটা বুঝতে পারা। সেই কোষগুলোও যে বৈপরিত্যের সহাবস্থানের নীতির আওতাভুক্ত তা পাভলভই প্রথম প্রমাণ করেছিলেন। এখনো স্বপ্ন নিয়ে অনেক কিছু জানা বাকি, কিন্তু বৈপরিত্যের সহাবস্থানের ধারণা ছাড়া সেই সংক্রান্ত গবেষণা এক পাও এগোতে পারবে না বলে মনে হয়। স্বপ্ন দেখার মূলনীতিই যদি জানা না থাকে তবে বাকি প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি করে?

যাহোক, এরকম হাজারো ব্যাপারে বৈপরিত্যের সহাবস্থান আমাদের জৈবনিক প্রক্রিয়া বুঝতে সাহায্য করে থাকে। তাই পরবর্তী আলোচনাগুলোতে এই ধারণাটি আমরা হরহামেশাই ব্যবহার করবো।

নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।