নিরভিকে ডট কমে আপনাকে স্বাগতম।এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।প্রশ্ন করতে Ask a Question ক্লিক করুন।
52 views
asked in বিজ্ঞান by (1,625 points)
closed by
closed with the note: only admin can answere this

1 Answer

1 like 0 dislike
answered by (1,625 points)
 
Best answer

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে অন্যান্য বিজ্ঞানের তুলনায় জীববিজ্ঞানে মুখস্থ একটু বেশি করতে হয়। তাছাড়া শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার ত্রুটি তো আছেই। সব মিলিয়ে তাই জীববিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহা। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখো, মুখস্থ কমবেশি সব বিষয়েই করা লাগে। এমনকি গণিতেও। গণিতের কোন চিহ্নের অর্থ কি আর কোন রাশির সংজ্ঞা কি সেটা তো মুখস্থ না করে উপায় নেই। হ্যাঁ, তুমি রামানুজনের মতো ইচ্ছেমতো রাশির নাম দিতে পারো তবে তখন তোমার কথা বুঝতে হার্ডির মতো বিশেষজ্ঞের দরকার হবে। কিন্তু গণিতে মুখস্থের ব্যাপারটুকু তেমন ঝামেলা করে না, কারণ, ধারণাগুলোকে ব্যবহার করতে করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাই, আমাদের মনেই হয় না যে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের চিহ্নগুলো আর বিন্দু-রেখা-তলের সংজ্ঞাগুলো কোনোকালে ‘ঐ দেখা যায় তালগাছ’ কবিতার মতো মুখস্থ করেছিলাম। আসলে সব বিজ্ঞানেই কিছু ব্যাপার আছে যেটা শুরুতে মুখস্থ করে নিতে হয় যাতে পৃথিবীর সবাই কোনো বিশেষ ব্যাপার বোঝাতে একই রকম শব্দ ব্যবহার করে। গণিতে এরকম মুখস্থ করার বিষয় সবচেয়ে কম। কারণ গণিতের প্রায় সবকিছু সংখ্যায় প্রকাশ করা যায়। তাই গণিত একটি ‘পরিমাণবাচক’ বিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানও অনেকটা গণিতের মতো - চূড়ান্ত মাত্রায় পরিমাণবাচক। কারণ সেখানে সমস্ত পদার্থের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে বিবেচনায় আনা হয় আর অমিলগুলোকে যথাসম্ভব বাদ দিয়ে তত্ত্ব নির্মাণ করা হয়। যেমন: ধরা যাক 10 Kg ভরের দুটি বস্তু 10 m দূরত্বে অবস্থান করছে, যাদের প্রত্যেকের আধান +10 C; তাদের মধ্যকার ক্রিয়াশীল বলের মান বের করতে হবে। এখানে তাদের মধ্যে মহাকর্ষ বল ও তাড়িতচুম্বক বলের মান যথাক্রমে নিউটন ও কুলম্বের সূত্র দিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে হিসেব করে তারপর নীট বলটা বের করতে হবে। এখানে লক্ষ্য কর, পদার্থবিজ্ঞানে কীভাবে পদার্থের এক একটি দিক হিসেব করার সময় অন্য দিকগুলোকে অগ্রাহ্য করা হয়। এই পদ্ধতি পদার্থবিজ্ঞানের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু জীববিজ্ঞানে বেশিরভাগ সময়ই এভাবে কাজ চালানো মুশকিল। কারণ জীববিজ্ঞান কাজ করে এমন সব সিস্টেম নিয়ে যা অনেকখানি জটিল এবং সেসব সিস্টেমকে পদার্থবিজ্ঞানের মতো ভেঙেচুরে দেখতে গেলে অনেক সময় সিস্টেমের আর অস্তিত্বই থাকে না! যেমন: যদি তুমি কোষ কীভাবে কাজ করে সেটা বের করতে চাও তাহলে তোমাকে পুরো কোষটাকেই একবারে বিবেচনা করতে হবে। তার বিভিন্ন অংশ (কোষঝিল্লী, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউকিয়াস ইত্যাদি) আলাদা আলাদা ভাবে যা যা করে তা থেকে কোষ যা করে তা বের করতে গেলে এমন অনেক কিছু বাদ পড়ে যাবে, যা ঐসব অংশগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট। এব্যাপারে যথাসময়ে বিস্তারিত বলা হবে। এখন নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে, জীববিজ্ঞান, গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের মতো অতোটা পরিমাণবাচক নয়, বরং গুণবাচক। তাই সংখ্যার চেয়ে ভাষার সহায়তা এখানে বেশি দরকার। সুসংবদ্ধভাবে জীববিজ্ঞানের চর্চা অন্যান্য বিজ্ঞানের তুলনায় দেরিতে শুরু হয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, জীববিজ্ঞানের বেলায় এমন অনেক ব্যাপার থাকতে পারে যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাওয়া গেছে কিন্তু ব্যাখ্যা অজানা। এমনটা সব বিজ্ঞানেই আছে এবং হয়তো চিরকালই থাকবে কিন্তু জীববিজ্ঞানে এমন বিষয় তুলনামূলকভাবে বেশি। (এজন্যেই আমার মনে হয় জীববিজ্ঞানে নিত্যনতুন আবিষ্কারের সুযোগও বেশি) পদার্থবিজ্ঞানেও একসময় এমন বিষয়ের বেশ বাড়াবাড়ি ছিল। যেমন: টাইকো ব্রাহের পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্য বিশ্লেষণ করে কেপলার যখন তাঁর বিখ্যাত তিনটি সূত্র দেন তখন হয়তো তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি যে তাঁর এই সূত্রগুলোকেও এক সূত্রে গাঁথা যেতে পারে; নিউটন ঠিক একাজটাই করেছেন। আলো আর মহাকর্ষ - এদুয়ের উপর নিউটনের বহু কাজ আছে কিন্তু এদের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে তা বুঝতে আমাদের আইনস্টাইন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। মোটামুটি এসব কারণেই জীববিজ্ঞান পড়তে স্মৃতিশক্তি একটু বেশি দরকার। তবে সেই সাথে একথাও ঠিক, জীববিজ্ঞান পড়তে পড়তে একটা পর্যায়ে গিয়ে টুকরো টুকরো তথ্যগুলো, যা এতোদিন বিচ্ছিন্নভাবে মাথায় ঢুকেছে, সব জোড়া লেগে একটা সামগ্রিক চিত্র তৈরি করে। তখন যে আনন্দ হয় তা একটা জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তখন মনে হয় যেন মনের একটা নতুন চোখ খুলে গেল। প্রকৃতিকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটাই তখন পাল্টে যায়। সে এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। মস্তিষ্কের কোন প্রক্রিয়া এর জন্য দায়ী তা যথাসময়ে আলোচনা করবো। তবে আপাতত বলে রাখি, সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে অবশ্য ধৈর্য ধরে জীববিজ্ঞান চর্চা করে যেতে হবে এবং আমি মনে করি একটু চেষ্টা করলে যে কেউ সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

commented by (1,788 points)
0 0
খুবই সুন্দর লিখা
নিরবিক ডট কম একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। এটি এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।আর আপনি যদি সবজান্তা হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।
...